জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট রাজপথে কঠোর কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা বন্ধে কঠোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জামায়াত।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামত উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থি। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন না করে ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন এবং দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আওয়ামী আমলের দলীয়করণের চেয়েও সরকার সর্বত্র দলীয়করণ করছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানে নিজেদের নেতাকর্মীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান দখলে নেওয়ার পর সরকার এবার ব্যাংক-বিমা দখলের চেষ্টা করছে। এ জন্য তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর এস আলম গ্রুপের সহযোগী সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছে। কারণ ব্যাংক লুটে খুরশীদ আলমের ব্যাপক অভিজ্ঞতা আছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকার আবার ইসলামী ব্যাংক থেকে জনগণের আমানত লুট করে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর জনগণের মধ্যে স্বস্তি আসার কথা থাকলেও মানুষের মধ্যে সরকার স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারেনি। সর্বত্র সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট, দখল, খুন-ধর্ষণে জনগণ উদ্বিগ্ন। সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের হাতে নারী-শিশু কেউ নিরাপদ নয়। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ।
তিনি বলেন, জনগণের বিপক্ষে না গিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। অন্যথায় রাজপথের আন্দোলন আরও কঠোরতর করার মাধ্যমে তা পূরণ করা হবে।
এদিকে ঘোষণা অনুযায়ী রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল ও সিলেটে সমাবেশ করছে জামায়াত জোট। এসব সমাবেশ থেকে রাজপথে কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছে দলটি।
এর আগে ১৬ এপ্রিল ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে গণমিছিল করে ১১-দলীয় জোট। ওই সময়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ২ মে’র পর বিভাগীয় পর্যায়ে ও বড় শহরগুলোতে অন্তত ১২টি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।
উল্লেখ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ দেশের চলমান পরিস্থিতির উন্নয়নে রাজনৈতিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছে জামায়াতসহ ১১ দল। দলের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গত ১৭ বছরে বিরোধী মতের মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। শেখ হাসিনা ভারতীয় বয়ানে রাজনীতি করেছিলেন, এই সরকারের গোলামির জিঞ্জিরও ভারতের হাতে।

