ঢাকা সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

সার্বভৌমত্ব ও দেশমাতৃকার সুরক্ষায় ত্যাগ স্বীকারের শপথ নবীন নৌ কর্মকর্তাদের

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০২:৪৬ এএম

মাতৃভূমির সুরক্ষা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মহান ব্রত নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অগ্রযাত্রায় যুক্ত হলেন ৬১ জন নবীন কর্মকর্তা। গতকাল রোববার ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে মিডশিপম্যান ২০২৩-বি এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৬-এ ব্যাচের গৌরবোজ্জ্বল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণাঢ্য গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০২৩-বি ব্যাচের ৫৪ জন মিডশিপম্যান এবং ২০২৬-এ ব্যাচের ৭ জন সরাসরি কমিশন্ড অফিসারসহ মোট ৬১ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন। উল্লেখ্য, কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে ৫ জন নারী এবং ২ জন বিদেশি কর্মকর্তা রয়েছেন।   

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান  এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, দেশের সমুদ্র অঞ্চলে সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক পরিম-লে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে চলেছে। নৌবাহিনী সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষায় কাজ করছে। পাশাপাশি  সমুদ্রপথে অপরাধ দমন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান, সংকটকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

এর আগে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে নৌবাহিনী প্রধান বিভিন্ন বিষয়ে কৃতী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে গৌরবময় পদক তুলে দেন। সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে মিডশিপম্যান মো. ইনতিসার ইসলাম ইনান, (এক্স), বিএন সব বিষয়ে সেরা চৌকশ মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। মিডশিপম্যান সাদমান সাকিব পান্থ (এক্স), বিএন প্রশিক্ষণে ২য় স্থান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌপ্রধান স্বর্ণপদক’ এবং সরাসরি কমিশন্ড অফিসার অ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট মো. আবিদ শাহরিয়ার অনু, (শিক্ষা), বিএন, কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র, সংসদ সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, বিভিন্ন দেশের ডিফেন্স ও মিলিটারি অ্যাটাশে, ঊর্ধ্বতন সরকারি  কর্মকর্তাগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।