জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ট্যাক্স অব্যাহতি সনদ পেতে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) কোম্পানিগুলোকে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত অনৈতিকভাবে ব্যয় করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন বেসিসের সাবেক পরিচালক রাশাদ কবির। তিনি দাবি করেন, এটি সংশ্লিষ্ট খাতে একটি ‘ওপেন সিক্রেট’।
গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ অভিযোগ করেন। ‘টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতে বাজেটের প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করে টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিআইপিএপি)।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইপিএপির আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর। বক্তব্য দেন টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ ও শেয়ার ট্রিপের সিইও সাদিয়া হক। আরও উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সাবেক পরিচালক ও বন্ডস্টাইন টেকনোলজি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মীর শাহরুখ ইসলাম।
রাশাদ কবির বলেন, ‘সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সফটওয়্যার শিল্প কর অব্যাহতি সুবিধাপ্রাপ্ত খাত। কিন্তু বাস্তবে সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বড় ব্যাংক ও বহুজাতিক কোম্পানি বিল পরিশোধের আগে এনবিআরের ট্যাক্স এক্সেম্পশন (কর অব্যাহতির) সনদ চায়।’
তার অভিযোগ, এই সনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত অনৈতিকভাবে খরচ করতে হয়। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি দ্রুত সার্টিফিকেট চান, তাহলে টাকা দিতে হয়। না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হবে। বারবার নতুন নতুন কাগজপত্র চাওয়া হবে, কিন্তু সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে না। এটা ওপেন সিক্রেট। একটু খোঁজ নিলেই বিষয়টি জানা যাবে।’
রাশাদ কবির বলেন, ‘দেশে যদি ৩ থেকে ৪ হাজার আইটি কোম্পানি থাকে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে গড়ে ১ লাখ টাকা করে ব্যয় করতে হয়, তাহলে শুধু একটি আইনগতভাবে প্রাপ্য সনদ পেতেই বিপুল পরিমাণ অর্থ অনৈতিকভাবে ব্যয় হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি করতে হবে এবং ট্যাক্স অব্যাহতি সনদ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে। কর অব্যাহতি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান আইটি কোম্পানির বিল থেকে আয়কর ও ভ্যাট কেটে রাখছে।’
নিজের একটি সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রাশাদ কবির জানান, একটি সরকারি প্রকল্পে তাদের প্রতিষ্ঠানের বিল থেকে ১৫ শতাংশ আয়কর ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট কেটে রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করলে অডিট-সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাত দেখানো হয়। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সেবাকে ‘কনসালটেন্সি সার্ভিস’ হিসেবে দেখিয়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর-ভ্যাট কেটে রাখা হয়। ফলে একদিকে সরকার আইটি খাতকে কর অব্যাহতি দিচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেই সুবিধা বাস্তবে কার্যকর করছে না।
তিনি বলেন, সরকার একদিকে বলছে এই শিল্প কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই কর ও ভ্যাট কেটে রাখছে। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন