× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০২:৫৪ এএম

রাজশাহী নার্সিং কলেজে আতঙ্ক, হোস্টেল প্রায় ফাঁকা

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০২:৫৪ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চোর সন্দেহে এক যুবককে মারধরের ঘটনায় মৃত্যুর পর দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় তিন শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাজশাহী নার্সিং কলেজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তারের ঘটনার পর অধিকাংশ ছাত্র হোস্টেল ছেড়ে চলে যাওয়ায় হোস্টেল প্রায় ছাত্রশূন্য হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আসন্ন চূড়ান্ত পরীক্ষা ও পরীক্ষার ফরম পূরণ কার্যক্রমেও।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ ডিসেম্বর রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সব বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষার ফরম পূরণের কার্যক্রম শুরু হলেও আতঙ্কের কারণে অনেক শিক্ষার্থী কলেজে ফিরছেন না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রাজশাহী নার্সিং কলেজে প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। এর মধ্যে ১০ জন ছাত্র এবং বাকিরা ছাত্রী। কলেজ ক্যাম্পাসের হোস্টেলে প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। ছাত্র ইউনিটে শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করলেও বর্তমানে সেখানে তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন ছাড়া প্রায় কেউ নেই বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

গত ১৮ জুন সন্ধ্যায় কলেজের ছাত্র হোস্টেলের তৃতীয় তলায় চোর সন্দেহে রাকিবুল হাসান রকি (৩২) নামে এক যুবককে কয়েকজন শিক্ষার্থী আটক করেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে তাকে মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় হোস্টেল থেকে বের হয়ে কিছু দূরে অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাকিবুল হাসান রকি রাজশাহী নগরের হেতেমখাঁ কারিগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় তার বোন রাজপাড়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে পুলিশ সোয়েব আক্তার শিমু, ফাহিম রেজা ববি ও আতিকুর রহমান নামে তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে পাবনা মানসিক হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। তাদের অনুপস্থিতিতে ওই যুবক একটি কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অন্য বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করেন। ঘটনার পর থেকেই ছাত্রদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, তার সন্তান ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলেও নিরাপত্তার শঙ্কায় বাড়িতে ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে নির্দোষ শিক্ষার্থীরা যেন হয়রানির শিকার না হন এবং তাদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হয়।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করেই তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না এবং পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

কলেজের অধ্যক্ষ ফারজানা পারভিন সাথী বলেন, কলেজ প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। হোস্টেল আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। তবে আতঙ্কের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ফিরে না আসায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!