২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্লাস্টিক শিল্পের অন্যতম প্রধান দুটি কাঁচামাল পিভিসি (পলিভিনাইল ক্লোরাইড) ও পিইটি (পলিইথিলিন টেরেফথালেট) রেজিনের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল। তবে এ খাতের কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে আবারও ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব করেন।
পরে বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে প্লাস্টিক খাতের ওপর আমদানি শুল্ক কমানোর আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হওয়া পিভিসি এবং পিইটি রেজিনের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল। এটিকে ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব জানাচ্ছি।
পিভিসি ও পিইটি রেজিনের ব্যবহার
দেশে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনে বহুল ব্যবহৃত কাঁচামাল পিভিসি ও পিইটি রেজিন। এগুলো দিয়ে তৈরি হয় পিভিসি পাইপ, ফিটিংস, পানির ট্যাংক, দরজা-জানালা, ফ্লোরিং সামগ্রী, বৈদ্যুতিক তার ও ক্যাবলের ইনসুলেশন, কৃত্রিম চামড়া, জুতার সোল, খাদ্য ও পানীয় বোতল, ওষুধ ও ভোক্তাপণ্যের প্যাকেজিংসহ অসংখ্য শিল্পপণ্য।
ফলে এসব কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়ানো হলে এর প্রভাব শুধু প্লাস্টিক শিল্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্মাণ, প্যাকেজিং, বিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিকস পণ্য, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য
প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ, পোশাক ও অটোমোবাইল খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমন শঙ্কা থেকে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ মেট্রিক টন পিভিসি রেজিন এবং সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন পিইটি রেজিনের চাহিদা রয়েছে। অর্থাৎ, পিভিসি ও পিইটি রেজিনের মোট চাহিদা প্রায় সাড়ে আট লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে দেশে পিভিসি রেজিন উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় দেড় লাখ টন এবং পিইটি রেজিন উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় এক লাখ টন। ফলে মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এ কারণে আমদানি শুল্ক বাড়লে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর তা সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত হলে পাইপ, ফিটিংস, পানির ট্যাংক, পানীয় বোতল, প্যাকেজিং সামগ্রী, বৈদ্যুতিক ক্যাবলের ইনসুলেশন, কৃত্রিম চামড়া, জুতা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের দামও বেড়ে যেতে পারে, যা ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে এ খাতের আমদানি শুল্ক কমাচ্ছে সরকার। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে পিভিসি ও পিইটি রেজিনসহ নানান খাতের শুল্ক কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন