ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

নতুন মামলায় গ্রেপ্তার খায়রুল হক, আটকে গেল মুক্তি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৬:৪০ এএম

আট মামলায় জামিন পাওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর হয়েছে, তাতে আটকে গেছে তার মুক্তি। পুলিশের আবেদনে গতকাল বুধবার তাকে বনানী থানার হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন জানান, খায়রুল হককে এদিন আদালতে হাজির করা হয়নি। ভার্চুয়ালি উপস্থিত দেখিয়ে শুনানি হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

এদিকে এই মামলায় খায়রুল হকের জামিনের জন্য আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। দুপুরে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এক মামলায় জামিন পেলে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। আজ নবম মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল। কবে মুক্তি মিলবে জানি না। আমরা অপেক্ষায় আছি সেঞ্চুরি পূরণের।’

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই খায়রুল হককে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। শুরুতে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরপরই তাকে নতুন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ফলে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির মুক্তি বারবার আটকে যায় বলে তার আইনজীবীদের অভিযোগ।

সবশেষ গত ৩০ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দের হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। কিন্তু দুই দিনের মাথায় বনানী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম তাকে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

গত সোমবার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও মামলার মূল নথি না থাকায় শুনানি পিছিয়ে বুধবার দিন রাখা হয়। আর বুধবার শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দেখানোর আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়। এ মামলার অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা শাহবাগে যাওয়ার পথে হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়।

এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। সেই উজ্জ্বল মিয়া ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর বনানী থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এ মামলা করেন।

খায়রুল হকের অন্যতম আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘এ মামলা যখন করা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি তখন জেলখানায় বন্দি ছিলেন। জেলখানায় থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে নতুন কোনো মামলায় সম্পৃক্ত হতে পারেন এবং তাকে অ্যারেস্ট দেখানো যায়? এটা সম্পূর্ণ বেআইনি।’