ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তাকর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৬:৪০ এএম

ঢাকার ব্যস্ত সড়কের পাশে ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করেন সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে আব্দুস সালাম। সেই পথ দিয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে যান।

প্রতিদিন রমনা পুরাতন থানার কাছে বুথের সামনে ধানের শীষ নিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন আব্দুস সালাম। তার এই নীরব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। সেই আব্দুস সালামকে গতকাল বুধবার বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন ঢাকার রমনা এলাকায় গিয়ে সেই সিকিউরিটি গার্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার হাতে কিছু উপহারও তুলে দেন। এ সময় আব্দুস সালামের শারীরিক অবস্থা ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেন অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি।

আব্দুস সালামের বাড়ি পাবনার নগরবাড়ী ঘাট এলাকায়। রাজধানীর পুরাতন রমনা থানার সামনের একটি ব্যাংকের বুথে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করছেন তিনি। এর আগে পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। স্ট্রোক করার পর আর গাড়ি চালাতে পারেন না, তারপর সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নেন তিনি। অসুস্থ শরীর নিয়েই বিরতিহীনভাবে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা কাজ করেন আব্দুস সালাম।

প্রধানমন্ত্রী তার সচিবালয়ের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় প্রতিদিন আব্দুস সালাম রমনা পুরাতন থানার কাছে বুথের সামনে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। এমন ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তার অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমনকে তার খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য উপহার নিয়ে পাঠান।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুস সালাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো কল্পনাও করিনি, এটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হবে। আর প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য উপহার পাঠাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে ভালোবাসি, মাকে ভালোবাসি, প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। তিনি যখন এই পথ দিয়ে যান, আমি সব দিনই প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিই, তিনিও আমাকে গাড়ির ভেতর থেকে হেসে সালামের উত্তর দেন। হাত নেড়ে শুভেচ্ছাও জানান। আজ আমার জীবনের সেরা দিন। সবচেয়ে আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রী আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষকে উপহার পাঠিয়েছেন, এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে।’