ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

নিউইয়র্ক সফররত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৬:৪৪ এএম

মাদক চোরাচালান রোধ, মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ এবং আধুনিক নগর নিরাপত্তা ও পুলিশের পেশাগত প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের প্রতিনিধিদলের। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সদস্য দেশের পুলিশপ্রধানদের সম্মেলনে অবস্থানরত এই তিন দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের নেতত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের দ্বিপাক্ষিক এ বৈঠকে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রীর সফল বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ওই সফরের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার রোধে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা দুই দেশের সীমান্ত ও সমাজকে সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।  

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ ১৪ বছর বিরতির পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এর ফলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মানবিক সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্রের অভাবে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি নাগরিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশটির ‘কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড’ (সিএনআইসি) প্রাপ্তিতে জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। এর ফলে তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বিষয়টিকে সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে এবং এর দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য পাকিস্তানের মন্ত্রীকে বিশেষ অনুরোধ জানান।

 বৈঠকে নগর নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সফল অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের ৪০টিরও বেশি প্রধান শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ উদ্যোগ এবং আধুনিক নগর নিরাপত্তাব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত অনুকরণীয় হতে পারে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের শহরগুলো আরও নিরাপদ করতে পাকিস্তান কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রদান করতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বাড়াতে পুলিশ কর্মকর্তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।