রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে শুধু সিটি বাসের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আর আন্তঃজেলা বাস পর্যায়ক্রমে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। পাশাপাশি গুলিস্তান থেকেও বাস টার্মিনাল নদীর ওপারে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন ও উচ্ছেদ অভিযান শেষে সাংবাদিকদের তিনি আরঢ বলেন, সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করতে সায়েদাবাদের বাস কাউন্টারগুলো আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় টার্মিনাল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানও তদারকি করেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সায়েদাবাদ একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়নি। যাত্রী ওঠানামার কেন্দ্র হওয়ার পরিবর্তে এটি বাসের গ্যারেজ ও ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছিল। অথচ একটি বাস টার্মিনালের মূল কাজ হলো দূরপাল্লার যাত্রীরা এখান থেকে বাসে উঠবেন এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীরা এখানেই নেমে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাবেন। টার্মিনাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু হয়েছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে। আপাতত প্রতিটি পরিবহন কোম্পানি সর্বোচ্চ একটি বা দুটি বাস অপেক্ষমাণ রাখতে পারবে। এর বেশি কোনো বাস টার্মিনালের ভেতরে রাখা যাবে না।
আবদুস সালাম বলেন, টার্মিনালের যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করতে তিন দিক দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অনুরোধে চলতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর আর যেখানে-সেখানে বাস থামানো বা যাত্রী ওঠানামার সুযোগ থাকবে না। ঢাকার বাইরে যাওয়া যাত্রীদের নির্ধারিত টার্মিনাল থেকেই বাসে উঠতে হবে। পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ছাড়া রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে এবং তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, টার্মিনালের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও বাড়ানো হবে। এসি বাসের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। টার্মিনালের ভেতরে থাকা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বৈধতার দাবি থাকলেও আগে সব দোকানপাট সরিয়ে নিতে হবে। পরে কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী শৃঙ্খলার মধ্যে ভেন্ডর বা হকারদের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হবে।
অভিযানে এখন পর্যন্ত কাউকে জরিমানা করা হয়নি উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনাল পুরোপুরি পরিষ্কার না হলে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। এবার আর আগের মতো অবৈধ কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। সায়েদাবাদ টার্মিনালকে পুরোপুরি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে। একই সঙ্গে সায়েদাবাদকে শুধু সিটি টার্মিনাল হিসেবে রাখা, আন্তঃজেলা বাস কাঁচপুরে স্থানান্তর এবং গুলিস্তানের বাস টার্মিনাল নদীর ওপারে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর পরিবহনব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরঢ বলেন, টার্মিনালে যানবাহন চলাচল আরঢ সুশৃঙ্খল করতে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথে দুটি করে মোট চারটি নিয়ন্ত্রণকক্ষের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাউন্টারগুলো টার্মিনালের ভেতরে নিতে হবে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অনুরোধে চলতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে রাজধানীর পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন