× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৬:১৩ এএম

আলোচনা সভায় বক্তারা

স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চলবে

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৬:১৩ এএম

স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চলবে

শোষণ ও লুটপাট করে যারা পালিয়ে যায় দেশের সেসব শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এবি পার্টির পক্ষ থেকে আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতারা এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, দেশে হঠাৎ করে বিভিন্ন জায়গায় সাদা কাপড়ে কালেমাখচিত পতাকা দেখা যাচ্ছে। এটা একটা কন্সপিরেসি (ষড়যন্ত্র)। এটা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা, শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই অভ্যুত্থানের সংগঠকরা বক্তব্য রাখেন। আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিলÑ ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনো রাজনৈতিক বাস্তবতা নেই। পৃথিবীর কোনো দেশও তাকে গ্রহণ করতে আগ্রহী হয়নি। তিনি বলেন, গণভবন দখলের মতো ঘটনা ইতিহাসে বিরল, যা জনগণের চূড়ান্ত অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ। তাই বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে আর কখনোই গ্রহণ করবে না। তবে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতির পরিবর্তন কখনোই রাতারাতি আসে না; পরিবর্তন ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশও সেই পথেই এগোচ্ছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, জুলাই জাতির জন-আকাক্সক্ষার প্রতীক এবং অন্যায় ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিজয়ের নাম। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সেই জন-ম্যান্ডেট উপেক্ষিত হচ্ছে। তিনি বিচারহীনতার অবসান, মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানান।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জুলাই সনদের একটি সংস্কারও বাস্তবায়িত হয়নি। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন ছাড়া ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব নয়। মানুষ এখনো জুলাইকে ভুলে যায়নি এবং প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়েই জুলাইয়ের অঙ্গীকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকার পতনের ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্র পুনর্গঠন, ন্যায়বিচার ও জনগণের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার। দুই বছরের মাথায় জুলাইয়ের পরাজিত শক্তি পরিকল্পিতভাবে জুলাইকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

শহিদ জননী রোকেয়া বেগম বলেন, সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকা না থাকলে জুলাই আন্দোলন সফল হতো না। শহিদদের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য ছিল ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা; তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আর টালবাহানা চলতে পারে না। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে জনগণের সর্বস্তরের অংশগ্রহণ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যাবে না।

প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, জুলাইয়ের শক্তিকেই আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে। যারা গণহত্যা, গুম, আয়নাঘর ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাইয়ের শপথ হলো, কেউ যেন হত্যাকা- ঘটিয়ে পার না পায়। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, এই লড়াই শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক ছিল না; এটি ছিল বিচার, সংস্কার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আন্দোলন। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী গণঅভ্যুত্থান। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে হয়নি; দেশের তরুণরাই এর নেতৃত্ব দিয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী আখতার হোসেন, জুলাই শহিদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, শহিদ আরাফাত হোসেনের বড় ভাই হাসান আলী, এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, নারী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ফারাহ নাজ সাত্তার এবং সাংবাদিক সালাহউদ্দিন লাভলু প্রমুখ। 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!