উগ্রবাদী সংগঠন ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম-এফসিএস’ এর সদস্য সন্দেহে গ্রেপ্তার ৭ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম রিমান্ডের আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এ তথ্য দিয়েছেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন-শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান, বায়োজিত ও তাহসীন ইসলাম। এর আগে গত ৫ জুন যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকা থেকে তাহসীন ছাড়া বাকি ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উগ্রবাদী সংগঠনে সম্পৃক্ত সন্দেহে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। গত মঙ্গলবার তাদের মধ্যে সাবির ও তানিমকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। বাকি চারজনকে পাঠানো হয় কারাগারে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে যশোর সদর উপজেলার কিসমত নোয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাহসীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকেও ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। তবে আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অন্যদিকে দুই দফায় ছয় দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার সাবির ও তানিমকে কারাগারে পাঠানো হয়।
উগ্রবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার যাত্রাবাড়ী থানার ইন্সপেক্টর এ বি সিদ্দিক সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৬ জনের নাম দেওয়া হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়। গতকাল এই সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সিটিআই-৩ টিমের এসআই মনিরুজ্জামান। প্রথমে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানি হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরে আসামিদের সর্বোচ্চ রিমান্ড মঞ্জুরের আর্জি জানানো হয়। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন’।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান, বায়োজিতকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তাদের ‘সাবির ভাইয়ের জামাত’ নামে একটি সংগঠন রয়েছে। তারা ওই সংগঠনের দায়িত্বে বিভিন্ন পদের সদস্য।
আবেদনে বলা হয়, সংগঠনের মুলনীতি হল জঙ্গিবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- ব্যাহত করে ‘শরীয়াহ মতবাদ’ প্রতিষ্ঠা করা। সাবির সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ নামক একটি ফেসবুক পেজ খোলেন। মার্শাল আর্ট শেখার আড়ালে তারা উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অ্যাপস দিয়ে গ্রুপ চ্যাট, পার্সোনাল চ্যাট ও চ্যানেলের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করেন। এ ছাড়া সংগঠনের সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন ছদ্ম নাম ব্যবহার করে নিজেদের উগ্রবাদী লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন