সড়ক নাকি ধানের খেত-দূর থেকে বোঝার উপায় নেই। চারদিকে কাদা আর হাঁটুসমান পানি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের খাজরা বাজার থেকে আমাদী খেয়াঘাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক সংস্কারের দাবিতে এবার ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় যুবক ও শিক্ষার্থীরা। ভাঙাচোরা সড়কের কাদার মধ্যে ধানের চারা রোপণ করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা। স্থানীয়রা জানান, খাজরা বাজার, আমাদী খেয়াঘাটসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই সড়কটি। ১২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশ এখনো কাঁচা। বর্ষা শুরু হওয়ার পর ওই অংশ কাদা, খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদাময় ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে মোটরসাইকেল, ভ্যান ও ইজিবাইক চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তি নিয়ে এ পথ ব্যবহার করছেন।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া যুবকেরা বলেন, ‘যে রাস্তা দিয়ে মানুষ স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারে না, সেখানে ধান চাষ করাই ভালো।’ দ্রুত সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের। কাদাপানি মাড়িয়ে তাদের প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি রোগী, বিশেষ করে প্রসূতি ও মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষও এই সড়কের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। নিয়মিত যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকা-েও এর প্রভাব পড়ছে। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান গাইন বলেন, ‘এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার পথ। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ দুর্ভোগ পোহালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।’
স্থানীয় ব্যক্তি মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘জনগণের সুযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সড়ক সংস্কারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এই সড়কের সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।’
খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘এটি মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সড়ক। সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, তারা আর শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়কে দৃশ্যমান সংস্কারকাজ দেখতে চান। বর্ষা আরও তীব্র হওয়ার আগেই স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন