ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

বিদ্যুৎ বিলের বিশাল বোঝা রাসিকের কাঁধে

রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০১:৩১ এএম

রাজশাহী মহানগরীর সড়ক সৌন্দর্যায়নে বসানো হয়েছে আধুনিক মুকুটবাতি ও হাইমাস্ট লাইট। কিন্তু সময়ের প্রবাহে সেই সৌন্দর্যবর্ধন সামগ্রীই বড় আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি এবং দীর্ঘদিন বকেয়া পরিশোধ না করায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে নগরীর প্রায় অর্ধেক সড়কবাতি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাসিক প্রশাসন।

রাজশাহী মহানগরীকে রাতের বেলায় আলোকিত ও নান্দনিক করে তুলতে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সড়কে স্থাপন করা হয় আধুনিক মুকুটবাতি এবং হাইমাস্ট লাইট। রাসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থেকে বন্ধগেট, তালাইমারি থেকে কোর্ট এবং তালাইমারি থেকে কাঁটাখালী পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার সড়কে প্রতি ১৫ মিটার পরপর এসব আধুনিক সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে কল্পনা মোড় থেকে তালাইমারি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের ডিভাইডারে ২০২২ সালে বসানো হয় ১৩০টি পোল। প্রতিটি পোলে রয়েছে ১৩টি করে বাতি, যা বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

রাসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তুরস্ক, চীন ও ইতালি থেকে আমদানি করা এসব আলোকবাতির পাশাপাশি নগরীর ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত হাইমাস্ট লাইটের বিদ্যুৎ ব্যয়ও অনেক বেশি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল বেড়ে প্রায় ৪২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এদিকে ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত নান্দনিক আলোকবাতির একটি বড় অংশ নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) একাধিকবার বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য নোটিশ দিলেও দীর্ঘদিন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। তবে বর্তমান প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং ধাপে ধাপে বকেয়া পরিশোধের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। রাসিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৪২ কোটি টাকার এই বকেয়ার মধ্যে শুধু সড়কবাতির বিদ্যুৎ বিল নয়, নগরীর চারটি জোনের পানির পাম্প, প্রশাসনিক ভবন এবং আরবান হেলথ কেয়ার সেন্টারের বিদ্যুৎ বিলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন সাংবাদিকদের বলেন, এক সঙ্গে এত বড় অঙ্কের বকেয়া পরিশোধ করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। তাই প্রতি মাসে ধাপে ধাপে বকেয়া পরিশোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের অপচয় কমাতে নগরীর প্রায় অর্ধেক সড়কবাতি আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রয়োজনভিত্তিক আলোকসজ্জা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন আর্থিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।