ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

সাদিক কায়েম

জুলাইয়ের বীরদের ভিলেন বানানোর চেষ্টা চলছে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০১:৩২ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর অনেক নেতা বাংলাদেশ থেকে চুরি করা কোটি কোটি ডলার নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আজ তারা সেই চুরির টাকা ব্যবহার করে বিদেশ থেকে জুলাই বিপ্লবকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন। তারা জুলাইয়ের বীরদের ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। গতকাল রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘২য় জুলাই বিপ্লব আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিজেআর-ওও ২০২৬)’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সাদিক কায়েম বলেন, গত ১৫ বছর ধরে একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা আমাদের কণ্ঠরোধ করে রেখেছিল এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করেছিল। আমরা অত্যন্ত কঠিন সময় পার করেছি। গত ১৬ বছর এ দেশে গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- এবং অজস্র অমানবিক কর্মকা-ে জর্জরিত ছিল। সেই অন্যায় থেকেই জন্ম নিয়েছিল জুলাই বিপ্লব।

তিনি আরও বলেছেন, তারা ভাবছেন তাদের এই অপপ্রচার আমাদের সব কিছু ভুলিয়ে দেবে। তারা ভাবছেন যে, গত ১৫ বছর ধরে শত শত মানুষকে হত্যা করেছেন, গুম করেছেন, দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করেছেন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছেনÑ সেসব কথা মানুষ ভুলে যাবে। কিন্তু আমরা কখনোই তা ভুলব না। ডাকসু ভিপি বলেন, জুলাইয়ের এ আন্দোলন নিপীড়ন, কর্তৃত্ববাদ ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে পরিণত হয়েছিল। ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সম্পর্কের (অধিকারের) জন্য লড়াই করেছিলাম। আর অবশেষে এ জুলাই মাসে, যখন আমাদের অধিকার আক্রান্ত হলো, বাংলাদেশ আবারও জেগে উঠল। সেই অর্থে, জুলাই বিপ্লব আমাদের দীর্ঘ ও গৌরবময় জাতীয় ঐতিহ্যেরই একটি অংশ।

বিপ্লবের পরই সব কিছু রাতারাতি পূরণ হয়ে যায় না উল্লেখ করে ডাকসু ভিপি বলেন, বাংলাদেশ রাতারাতি ন্যায়বিচারের স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠেনি। তাই কিছুটা হতাশা থাকা স্বাভাবিক। আমি আপনাদের অনেক উদ্বেগের সঙ্গেই একমত, কিন্তু তা জুলাই বিপ্লবের গৌরবকে ক্ষুণœ করে না। জুলাই শুধু ৩৬ দিনের একটি আন্দোলন ছিল না। সেই ৩৬ দিন ছিল একটি দীর্ঘ যাত্রার সূচনা মাত্র। এটি ন্যায়বিচার, সংস্কার এবং একটি জাতি হিসেবে আমাদের ক্ষত নিরাময়ের দীর্ঘ যাত্রা। তাই আমাদের আশাহত হওয়া চলবে না।