জয়পুরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী শামিয়া খান এশা। তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গতকাল রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন এশা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই মো. আরিফ হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার পরিবার সামর্থ্যরে সর্বোচ্চ দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও অন্যান্য উপহার দেয়। এ ছাড়া স্বর্ণালংকার, মূল্যবান ঘড়ি ও হীরার আংটিসহ প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার উপহার দেওয়া হয়। বিয়ের পর প্রথমদিকে আমাদের সংসার স্বাভাবিক ছিল। চাকরির সুবাদে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জয়পুরহাটে সংসার করে আসছিলাম। ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে মেয়েটির বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর।
এশার অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তার স্বামীর আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করেন। তিনি নিয়মিত মদ্যপান ও মাদক সেবন শুরু করেন এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি একাধিক নারীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এশা বলেন, তার অনুপস্থিতিতে বাসায় বিভিন্ন নারীকে নিয়ে আসা হতো। কখনো কখনো বন্ধুদের নিয়ে মদ্যপান ও নারীসঙ্গেও লিপ্ত হতেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। একপর্যায়ে সে কামরুন জাহান বীথি নামে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং তাকে বাসায় এনে সম্পর্ক চালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে তিনি রামপুরা থানায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়ে তার স্বামী ৪০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তার বাবা-মা গ্রামের জমি বিক্রি করে নগদ অর্থ ও ব্যাংক চেকের মাধ্যমে সেই টাকা দেন। ওই অর্থের মধ্যে ১২ লাখ টাকা দিয়ে কাগজপত্রবিহীন একটি প্রিমিও গাড়ি কেনা হয়। পাশাপাশি পূর্বাচলে জমি কেনাসহ বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করে। এরপরও আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এশা বলেন, গত ৯ জানুয়ারি গভীর রাতে জয়পুরহাটের ভাড়া বাসায় যৌতুকের দাবিতে আমাকে একাধিকবার মারধর করা হয়। এ সময় আমার শিশুকন্যাকেও মারধর করা হয়। পরে আমাদের বাসা থেকে বের করে দেওয়া হলে পাশের বাসায় আশ্রয় নিই। পরে স্থানীয় সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিই।

