× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

আকাশ চৌধুরী : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৭:০১ এএম

সীমান্ত সড়ক বদলে দিতে পারে সিলেটের পুরো অর্থনীতির চিত্র

আকাশ চৌধুরী : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৭:০১ এএম

সীমান্ত সড়ক বদলে দিতে পারে সিলেটের পুরো অর্থনীতির চিত্র

সিলেটকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাজধানী বলা হয়। পাহাড়, ঝরনা, নদী, হাওর, চা-বাগান, বনাঞ্চল এবং সীমান্তঘেঁষা মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন অঞ্চল এটি। প্রতিবছর লাখো দেশি-বিদেশি পর্যটক সিলেটে ভ্রমণে এলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে জেলার পর্যটন সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। একই দিনে একাধিক পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা প্রায় অসম্ভব হওয়ায় পর্যটকদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। এমন বাস্তবতায় সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর থেকে বিছনাকান্দি এবং রাধানগর থেকে জাফলং পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে পর্যটন খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।

এলজিইডির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর থেকে বিছনাকান্দি পর্যন্ত প্রায় ১৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং রাধানগর থেকে জাফলং পর্যন্ত আরও প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই সড়কের সঙ্গে চারটি নতুন সেতুও নির্মিত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের অন্তত ১৩টি দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্র একই সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। ফলে ভোরে সিলেট শহর থেকে যাত্রা শুরু করে একজন পর্যটক একদিনেই সাদাপাথর, উৎমাছড়া, দমদমা ছড়া, বিছনাকান্দি, লক্ষ্মণছড়া, পান্থুমাই, খাসিয়াপল্লী, জাফলং, মায়াবী ঝরনা, সমতল চা-বাগান, তামাবিল এবং নলজুড়ি ঝরনাসহ একাধিক আকর্ষণীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারবেন।

বর্তমানে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় একজন পর্যটককে একটি স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পুরো ভ্রমণ শেষ করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগে। ফলে যাদের হাতে সীমিত সময় থাকে, তারা অনেক দর্শনীয় স্থান বাদ দিতে বাধ্য হন। নতুন এই সংযোগ সড়ক সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর করবে। সময় কম লাগবে, যাতায়াত সহজ হবে এবং পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাও হবে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

শুধু পর্যটকদের সুবিধাই নয়, এই প্রকল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে স্থানীয় হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, নৌযান, ট্যুর গাইড, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হস্তশিল্প বিক্রেতা এবং স্থানীয় কৃষি ও মৎস্য খাতও লাভবান হবে। হাজারো মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকলেই পর্যটন শিল্প বিকশিত হয় না; প্রয়োজন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, মানসম্মত আবাসন এবং পরিকল্পিত অবকাঠামো। বিশ্বের সফল পর্যটন অঞ্চলগুলোর দিকে তাকালেই দেখা যায়, সেখানে সহজ যোগাযোগই পর্যটন বিকাশের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সিলেটের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা সীমান্তঘেঁষা এই সংযোগ সড়কের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু ১৩টি পর্যটনকেন্দ্র নয়, ভবিষ্যতে সিলেটের প্রায় ৩০টি পর্যটনকেন্দ্রকে একটি সমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে। জাফলংয়ে রাত্রিযাপনের পর পর্যটকরা পরদিন ডিবির হাওর, লালাখাল, জৈন্তা রাজবাড়ি, রাতারগুল, খাদিম চা-বাগান, খাদিম জাতীয় উদ্যান এবং হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারও সহজেই ঘুরে দেখতে পারবেন। অর্থাৎ সিলেটে দুই দিনের একটি পরিকল্পিত পর্যটন প্যাকেজ বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

তবে শুধু সড়ক নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার, নিরাপদ পার্কিং, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র, আধুনিক সাইনেজ, উদ্ধার ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ অপরিকল্পিত পর্যটন অনেক সময় প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি করে। সিলেটের সৌন্দর্য রক্ষা করেই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও সীমান্ত আইন মেনে পর্যটন পরিচালনার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন গড়ে তোলা গেলে এই উন্নয়নের সুফল আরও বিস্তৃত হবে।

সবশেষে বলা যায়, সিলেটের সীমান্তঘেঁষা এই সাড়ে ৩২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি সিলেটের পর্যটন শিল্প, স্থানীয় অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের জন্য একটি সম্ভাবনার দ্বার। পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত ও মানসম্মতভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট দেশের অন্যতম আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন শুধু সিলেট নয়, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!