গানের প্রতিটি ছত্রে যারা প্রেম, বিরহ আর জীবনবোধ খুঁজে পান, তাদের কাছে জিসান খান শুভ অতি পরিচিত নাম। তবে গত বছর থেকে এই সংগীতশিল্পীর পরিচয় বদলেছে কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে; তিনি এখন কলম ধরছেন কবিতার খেরোখাতায়। গত বইমেলায় ‘আহা আমি’ দিয়ে শুরু হয়েছিল তার কাব্যযাত্রা। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৬-এর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘আজও সৈকতে’। বইটি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তার ব্যক্তিজীবনে সমুদ্রের প্রভাব অপরিসীম। আর সেই প্রিয় সমুদ্রই হয়ে উঠেছে এবারের বইয়ের মূল উপজীব্য। মানুষের না বলা কথা, জমে থাকা অব্যক্ত ব্যথা আর যাপিত জীবনের আবেগগুলোকে তিনি তুলনা করেছেন সমুদ্রের বিশালতার সঙ্গে। লেখকের দাবি, তার অনুভূতির এই বিস্তারিত রূপরেখা জানতে হলে পাঠককে ডুব দিতে হবে ‘আজও সৈকতে’র পাতায়।
কবিতা লেখার প্রসঙ্গে শুভ বলেন, গান আর কবিতার ব্যবধানটা তার কাছে খুব সামান্য। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিটি জনপ্রিয় গানের জন্ম হয় একটি কবিতার গর্ভে। আগে যা শ্রোতারা সুরের মূর্ছনায় শুনেছেন, গত বছর থেকে তা বইয়ের পাতায় শব্দে শব্দে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নতুন বই ‘আজও সৈকতে’ নিয়ে তিনি দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘এই বইটি আমার লেখা হলেও এর প্রতিটি শব্দ এবং অর্থ আমার ব্যক্তিগত নয়। এখানে আমি পাঠককে এমন এক জায়গায় দাঁড় করাতে চেয়েছি, যেখানে আমরা প্রতিনিয়ত দাঁড়াই কিন্তু অগোচরেই এড়িয়ে যাই এর গভীরতা। বইয়ের কবিতাগুলো খুব অল্প সময়েই পাঠকের মনে অনেক আবেগ আর প্রশ্নের জন্ম দেবে বলে আমার বিশ্বাস।’
বইটির ফ্ল্যাপ লিখেছেন সময়ের জনপ্রিয় কবি স্বপ্নীল চক্রবর্ত্তী। গান ও কবিতার এই মেলবন্ধনকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘গান আর কবিতার যোগসূত্র অনেক পুরোনো। একটা ভালো গান যে ধারণ করতে পারে, সে কবিতাকেও নিজের অন্তরে লালন করতে পারবে। জিসানের কবিতা তার কণ্ঠের মতোই মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিক দিগি¦ধিক।’ পার্থ দিবস চৌধুরীর করা প্রচ্ছদে নতুন এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করছে নবকথন প্রকাশনী। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৩৮-২৪০ নম্বর স্টলে বইটি পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন