ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশ আমার দ্বিতীয় বাড়ি

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৬:৩০ এএম
ছবি : সাজ্জাদ হোসেন

তার কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ হয়ে আছে পুরো দক্ষিণ এশিয়া। ‘আদাত’ গানের সেই চেনা সুর থেকে শুরু করে ‘তু জানে না’ কিংবা ‘তাজদার-এ-হারাম’Ñ প্রতিটি গানেই তিনি শ্রোতাদের হৃদয়ে তৈরি করেছেন এক অনন্য আবেগ। এই সংগীত তারকা যতবারই বাংলাদেশে পা রেখেছেন, এ দেশের গানপ্রেমী মানুষ তাকে বরণ করে নিয়েছে এক বুক ভালোবাসা দিয়ে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজের নতুন সুর-সৃষ্টি আর কনসার্টের আমেজ নিয়ে তিনি আবারও এসেছেন ঢাকায়। নতুন অ্যালবাম, বাংলাদেশি খাবার আর এ দেশের দর্শকদের প্রতি গভীর অনুরাগের গল্প ভাগ করেছেন রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারে নিয়েছেন রুহুল আমিন ভূঁইয়া

আবারও বাংলাদেশের মাটিতে। কেমন লাগছে?

বাংলাদেশ এখন প্রায় আমার দ্বিতীয় বাড়ির মতো মনে হয়। এখানকার মানুষ আমাকে অনেক ভালোবাসা দেয়। এটা সম্ভবত বাংলাদেশে আমার অষ্টম সফর। সব সময়ই বাংলাদেশের শ্রোতারা আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন, আমার গান শুনেছেন, পছন্দ করেছেন। আমি সব সময়ই বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় থাকি। কারণ এখানকার দর্শকরা খুবই উৎসাহী, আবেগপ্রবণ এবং দারুণ মানুষ। তারা আমার গান খুব ভালোবাসে। তাই আমি আপনাদের সবাইকে খুব ভালোবাসি।

আসছে আপনার নতুন অ্যালবাম। কিন্তু এত দীর্ঘ সময় পরে কেন?

আসলে যখন আমি সংগীতজীবন শুরু করি, তখন কখনো ভাবিনি আমি এতটা সফল হব। এই সবকিছুর জন্য আমার সব ভক্তের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু একসময় আমি অনুষ্ঠান নিয়েই এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম যে নিজের জন্য সময়ই বের করতে পারিনি। যদিও আমার গানের কিছু অংশ লিখছিলাম, তবুও সময়ের অভাব এবং রেকর্ডিংয়ের ব্যস্ততার কারণে সেগুলো প্রকাশ করতে পারিনি। আমার সব প্রযোজক, পরিচালক, ভিডিও নির্মাতা এবং মিউজিক লেবেলের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমি যেভাবে নিজের গান প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম, তা করতে পারিনি। কারণ বেশিরভাগ সময় চলচ্চিত্রের গানই গেয়েছি। তাই মনে হলো এখন সময় এসেছে নিজের জন্য কিছু করার। ২০টিরও বেশি গান প্রকাশ করতে চাই। এখন থেকে নিয়মিত অ্যালবাম প্রকাশ করব।

অ্যালবামটি সম্পর্কে জানতে চাই

৩১ জুলাই দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ হচ্ছে। প্রায় ১৮ বছর পর অ্যালবাম আসছে। এতে মোট আটটি গান রয়েছে। অ্যালবামের নাম ‘সুবাহ আয়ে না’। এই অ্যালবামটি নিয়ে প্রায় আট বছর কাজ করেছি। এই সময়ে অনেক গান লিখেছি, কিছু সুরও নিজে করেছি। পাশাপাশি আরও অনেক সংগীতশিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছি।

বাংলাদেশের কোন খাবার আপনার সবচেয়ে প্রিয়?

ব্যক্তিগতভাবে খিচুড়ি খুব পছন্দ করি। আর আপনাদের যে মালাই চা আছে, সেটি অসাধারণ সুস্বাদু। এ ছাড়া বিরিয়ানিও দারুণ। আমি যখন বিশ্বের অন্য দেশে যাই, তখনো বাংলাদেশি খাবারের খুব প্রশংসা করি। কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে চাইনিজ বা থাই খাবার পছন্দ কি না, আমি বলি, আগে একবার বাংলাদেশি খাবার খেয়ে দেখুন।

রুনা লায়লার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

আমরা একসঙ্গে একটি প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলাম। তিনি ‘ও লাল মেরি’ কালামের জন্য খুব বিখ্যাত। তিনি অসাধারণ একজন শিল্পী এবং একজন কিংবদন্তি। তার সঙ্গে কাজ করে খুব ভালো লেগেছে।

অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের পার্থক্য কী?

সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো, আপনাদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা এবং সাড়া পাই, সেটা অন্য কোথাও পাই না।

প্লেব্যাক আর অ্যালবামের গানের মধ্যে পার্থক্য কী?

প্লেব্যাকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ থাকে। সংগীত পরিচালকদের কাছ থেকে উচ্চারণ, উপস্থাপন এবং নির্দিষ্ট সুর গাওয়া শেখা যায়। কিন্তু অ্যালবামে, যেমন ‘সুবাহ আয়ে না’-তে, আমি একেবারে স্বাধীনভাবে নিজের মতো করে কাজ করতে পেরেছি। সেখানে কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্যের সীমাবদ্ধতা থাকে না। আপনি নিজেই নিজের সংগীত পরিচালক হতে পারেন। এটাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য।

বাংলাদেশের সিনেমার জন্য বাংলা গান গাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে?

হ্যাঁ, আমরা ইতোমধ্যে বাংলা (টালিউড) একটি চলচ্চিত্রের জন্য গান করেছি। সিনেমাটির নাম ‘মিঠে আলো’। আমি আরও বাংলা গান গাইতে চাই এবং আমার আগামী প্রকল্পগুলোর জন্য বাংলাদেশের শিল্পী ভাই-বোনদের সঙ্গে কাজ করতে চাই।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে আপনি খুবই বিশেষ। কেমন লাগে?

ভীষণ ভালো লাগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আমার সবচেয়ে বেশি শ্রোতা বাংলাদেশের। এটা আমার জন্য গর্বের বিষয়। কারণ আমি আপনাদের খুব ভালোবাসি। বছরের পর বছর আপনারা আমার গানকে যে সময় ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ।

যখন মন খারাপ থাকে বা বিষণœ থাকেন, তখন কী ধরনের গান শোনেন?

আমি সব ধরনের গানই শুনি। তবে আমার মনে হয়, মন খারাপের সময়টাই গান লেখার জন্য সবচেয়ে সুন্দর সময়। তখন সৃজনশীলতা সবচেয়ে বেশি কাজ করে। গানের কথা, সুর, কর্ড নিয়ে অনেক কিছু ভাবতে পারি। একা থাকার সেই সময়টা আমাকে অনেক সাহায্য করে।

আপনার নিজের কোন গান সবচেয়ে প্রিয়?

আমার অ্যালবামের গানগুলোই সবচেয়ে প্রিয়। কারণ সেগুলো আমার হৃদয় থেকে লেখা। বিশেষ করে নতুন এই অ্যালবামটিতে আমার অনেক চিন্তা আর অনুভূতি রয়েছে। অনেক দিন পর আমি এটা তৈরি করেছি। তাই এগুলো আমার হৃদয়ের খুব কাছের।