ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থীর নারী কর্মীদের ওপর একই আসনের জামায়াত প্রার্থীর কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের তিন কর্মী আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় চরফ্যাশন পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচার চলাকালে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাতাপাখা প্রতীকের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামাল ও তার দুই ভাই কয়েকজন নারী কর্মীকে নিয়ে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সকাল ৯টার দিকে তার বাবার পক্ষে নির্বাচনি প্রচার চালান। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা কামালের কর্মী সোহেল ও আলাউদ্দিন তাদের নির্বাচনি প্রচারকাজে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিত-া হয়। পরে সোহেল ও আলাউদ্দিন দলবদ্ধ হয়ে হাতপাখার কর্মীদের ওপর হামলা চালান।
ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামাল চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্যে জানান, তিনি তার দুই ভাই ফয়সাল আহমেদ ও তাহজিবসহ সাত-আটজন নারী কর্মীকে নিয়ে সকাল ৯টায় পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনি প্রচারকাজ চালান। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সোহেল ও আলাউদ্দিন তাদের প্রচারণায় বাধা দেন এবং এলাকা ছেড়ে যেতে হুমকি দেন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে বাগবিত-া শুরু হয়। এ সময় জামায়াত ইসলামীর কর্মীরা দলবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালান। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে প্রথামিক চিকিৎসা দিয়েছেন। ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী কামাল উদ্দিন জানান, ‘জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা আমাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে আমার নির্বাচনি প্রচারকাজ বানচাল করতে চায়। আমার এতে নির্বাচনের পরিবেশে বিঘœ সৃষ্টি হয়। তারা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।’
ঘটনার পরপরই জামায়াতের কর্মী আলাউদ্দিন ও সোহেল মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ মীর মো. শরিফ বলেন, ‘যদি আমাদের কর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমাকে ঘটনাটি অবগত করা হয়েছে। তবে তারা নিজেরাই সমঝোতা করবে বলেও জানিয়েছে।’

