ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

ঝিনাইদহে ভুট্টা চাষে বাড়ছে কৃষকের আস্থা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৬, ০১:৪৫ এএম

ঝিনাইদহ জেলায় দিন দিন বাড়ছে ভুট্টা চাষ। তুলনামূলক স্বল্প খরচে চাষযোগ্য হওয়ায় জেলার ছয়টি উপজেলায় কৃষকদের কাছে এ ফসল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বোরো ধানসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় বিকল্প ফসল হিসেবে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগ জানায়, পোল্ট্রি শিল্পে ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা, উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্যবহার, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ জেলায় ভুট্টাকে সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধান ঘরে তোলার পরপরই কৃষকেরা জমিতে ভুট্টার বীজ বপন করেছেন। বর্তমানে গাছগুলো বড় হয়ে উঠেছে এবং খেতের পরিচর্যা, সেচ ও সার প্রয়োগসহ বিভিন্ন কাজ চলছে। ভুট্টা চাষে সাধারণত পটাশ, ডিএপি, জিপসাম, সালফার, ইউরিয়া, দস্তা এবং বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৮ হাজার ৮০৬ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ হয়েছে। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ১৩৪ হেক্টর, যেখানে আবাদ হয়েছিল ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। ওই বছর উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৫৮৬ মেট্রিক টন ভুট্টা। সে হিসেবে গত বছরের তুলনায় এবার ভুট্টা চাষ বেড়েছে প্রায় ৫৬ হেক্টর জমিতে এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫৬ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আড়ুয়াকান্দি গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষে লাভ বেশি। দেশি জাতের তুলনায় হাইব্রিড ভুট্টায় ফলন ভালো এবং খরচও তুলনামূলক কম। এ ছাড়া ভুট্টা গাছের উপরিভাগ গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং মাড়াইয়ের পর অবশিষ্টাংশ জ্বালানি হিসেবেও কাজে লাগে।

একই উপজেলার কৃষক আসলাম ম-ল জানান, গত বছরের চেয়ে এবার এক বিঘা বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন তিনি। গত বছর ভালো ফলন পেয়েছিলেন। এ বছরও ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ার আশা করছেন।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ভুট্টা একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। জেলায় উৎপাদিত ভুট্টা স্থানীয় চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।