ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পানির খোঁজে মানুষের আর্তনাদ

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ০১:৫১ এএম

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের ভারানী খাল একসময় ছিল দুই ইউনিয়নের মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন। বিষখালী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এই খাল ঘিরেই চলত কৃষিকাজ, মাছ ধরা এবং দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণ। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, দখল ও দূষণে সেই খাল আজ প্রায় অস্তিত্বহীন। ফলে পানির জন্য হাহাকার করছে স্থানীয় মানুষ আর কৃষি উৎপাদন পড়েছে হুমকির মুখে।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের বুকজুড়ে এখন গড়ে উঠেছে গাছপালা, বসতঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা। কোথাও কচুগাছসহ আগাছায় ভরে গেছে পুরো খাল। অনেক জায়গায় খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে, আবার কোথাও খালের চিহ্নই মুছে গেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও শুকনো মৌসুমে দেখা দিচ্ছে পানির তীব্র সংকট।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সেচের পানির অভাবে তাদের চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগে এই খাল থেকেই সহজে জমিতে পানি দেওয়া যেত, এখন সেই সুযোগ নেই। ফলে উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকছে। অন্যদিকে, গৃহস্থালির কাজেও পানির সংকটে পড়ছেন এলাকাবাসী।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কাকচিড়া বাজারসংলগ্ন খালের পাড়ে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। এতে কৃষক, জেলে, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তিন শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারানী খালটি দ্রুত দখলমুক্ত করে পুনঃখননের মাধ্যমে বিষখালী নদীর সঙ্গে স্থায়ী সংযোগ স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিবেশ রক্ষায় টেকসই উদ্যোগ এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষের বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা দিতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

হাফেজ ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম নাঈম, শামিম দালাল, ইউপি সদস্য সোহাগ পহলান, সাগর হাওলাদার, সমাজসেবক বদিউজ্জামান সাহেদ এবং পরিবেশ সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা’র পাথরঘাটা উপজেলা সমন্বয়ক শফিকুল ইসলাম খোকনসহ অন্যরা।

বক্তারা আরও বলেন, শুধু খাল খনন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, খাল দখল ও দূষণের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় পুনরায় একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

মানববন্ধন থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে খাল খননের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই খাল সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে, যার ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই তারা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে খালটি পুনরুদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।