× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০১:১০ এএম

স্ত্রীর হাতে ভর করে বেঁচে থাকার লড়াই

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০১:১০ এএম

স্ত্রীর হাতে ভর করে  বেঁচে থাকার লড়াই

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয়রা। স্বামীর ভাঙা পা নিয়েও থেমে নেই জীবন, স্ত্রীর হাতেই ভর করে কষ্টে কষ্টে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ভালোবাসা, সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার এই দৃশ্য মুহূর্তেই নাড়া দেয় উপস্থিত সবার হৃদয়কে।

গত সোমবার দুপুরে দেখা যায়, প্রায় ২৫ বছর বয়সি এক যুবক দুই হাতে ক্রাচ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পেরে একটি পা স্ত্রীর হাতে তুলে দেন। স্ত্রী সেই পা নিজের হাতে ধরে তাকে ধীরে ধীরে হাঁটতে সহায়তা করছেন। কিছুদূর গিয়ে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়েন, আবার বিশ্রাম শেষে শুরু হয় পথচলা।

পরে জানা যায়, ওই যুবকের নাম এনামুল। তার বাড়ি উপজেলার জাবারীপুর শ্যামপুর গ্রামে। পেশায় তিনি ট্রাক শ্রমিক। প্রায় দুই মাস আগে রাতে কাজের উদ্দেশ্যে বের হলে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। পাঁচজন মিলে তাকে মারধর করে নদীতে ফেলে দেয়। এতে তার একটি পা ভেঙে যায়।

অভাব-অনটনের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারেননি এনামুল। বর্তমানে অন্যের সহায়তায় কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন। চলাফেরার জন্য একটি হুইলচেয়ারের আশায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করতে এসেছেন।

এনামুল বলেন, তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। একটি হুইলচেয়ার পেলে চলাফেরা সহজ হবে বলে আশা করছেন। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার জন্যও সবার কাছে আবেদন জানান তিনি।

তার স্ত্রী বিথি বলেন, স্বামী এক পা মাটিতে রাখতে পারেন না। তাই তিনি পা ধরে রাখেন, এতে তার হাতের ওপর ভর করে স্বামী হাঁটতে পারেন। স্বামীর আয়েই সংসার চলত, এখন চিকিৎসা আর সংসার চালানো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের মতে, এমন দৃশ্য তারা আগে দেখেননি। ভালোবাসা আর সংগ্রামের এই চিত্র সমাজকে নাড়া দেওয়ার মতো।

স্থানীয়রা জানান, এনামুলের কোনো স্থায়ী সম্পদ নেই। পাড়া-প্রতিবেশীদের সামান্য সহায়তায় দিন চলছে। তবে চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, এনামুলকে একটি হুইলচেয়ার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!