ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলা ও পূর্ব শত্রুতার জেরে কয়েক গ্রামের মানুষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে ৩ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ব্যাপক হিমশিম খেতে হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ এলাকার কয়েকজন যুবক ফুটবল খেলার মাইকিং করার সময় পার্শ্ববর্তী খাঁপুরা গ্রামের যুবকদের সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়ান। এই ঘটনার রেশ ধরে গত শুক্রবার বিকেলে খাঁপুরা গ্রামের দুই যুবককে মারধর করে মুনসুরাবাদের যুবকরা। এর পাল্টা জবাবে খাঁপুরা গ্রামের লোকজন মুনসুরাবাদ বাজার কমিটির সভাপতি জিন্নাত মোল্লাকে পিটিয়ে জখম করে।
এরপর ওই দিন সন্ধ্যার পর থেকেই উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, সরকি ও রামদা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায় তারা। ওই সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
এরই জেরে গতকাল শনিবার সকাল ৭টা থেকে মুনসুরাবাদ বাজার সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পুনরায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। উভয়পক্ষ ঘরবাড়ির ছাদ ও দোকানের চালা থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন মহাসড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে এবং বেশ কিছু দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও ফরিদপুর জেলা থেকে আসা অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের ৩ সদস্যসহ উভয় পক্ষের শতাধিক লোক আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলামিন মিয়া জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়। পরে জেলা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দীপু জানান, দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষের পর ওই এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি।

