ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভয়াবহ লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৬:৪৯ এএম

তীব্র লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে ময়মনসিংহ নগরীতে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গরমের শুরু থেকেই ভ্যাপসা তাপপ্রবাহের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন নগরবাসী। এতে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সি মানুষ জ্বর, সর্দি-কাশিসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে গেলে আর কখন ফিরবে-তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিদ্যুৎ অফিস থেকেও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে যানবাহন চলাচলেও ব্যাপক বিঘœ ঘটছে। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও সিএনজি চালকরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি না পেয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন। সকাল ৭টা থেকেই পাম্পে ভিড় শুরু হলেও অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও জ্বালানি মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ সময় উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ময়মনসিংহ দক্ষিণ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায় জানান, এর কোনো সঠিক দিক নির্দেশনা আমার কাছে নেই। কারণ এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। যে পর্যন্ত  ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলের মাঝে সম্পর্কের উন্নয়ন না হবে সে পর্যন্ত সঠিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। এটির সঙ্গে তৈল গ্যাসের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতে হবে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং পরিস্থিতি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পর্কিত। অবৈধ মজুত রোধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। ফুয়েল কার্ডধারীরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে জ্বালানি নিতে পারবেন বলেও জানান তিনি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দ্রুতই জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে আসবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন কাজ করছে।