সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরের যানজট নিরসনের অন্যতম মাধ্যম ‘বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর বাইপাস’ সড়কটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত। কোথাও পিচঢালাই উঠে গিয়ে কাদাপানিতে একাকার, আবার কোথাও বড় গর্তে জমে আছে হাঁটুসমান পানি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রী ও যানবাহন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের ভেতর যানজট এড়াতে এবং বিশ্বনাথ ও জগন্নাথপুর উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীর উদ্যোগে এই বাইপাস সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। একসময় এটি দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ২০২২ সালের প্রলয়ঙ্কারী বন্যার পর থেকেই সড়কটির পতন শুরু হয়। বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর গত কয়েক বছরেও কোনো দৃশ্যমান সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাইপাস সড়কের দুই প্রবেশমুখ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনের অংশ, মাঝখানের ছোট ব্রিজ এলাকা এবং চৌরাস্তাসংলগ্ন স্থানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। পিচ ও ইট উঠে গিয়ে এসব জায়গায় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে ডুবে থাকায় চালকরা এর গভীরতা বুঝতে পারেন না, ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। অনেক সিএনজি অটোরিকশা ও পণ্যবাহী ট্রাক বাধ্য হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তায় চলাচল করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম জানান, বাইপাস দিয়ে গাড়ি যেতে না পারায় অধিকাংশ যানবাহন এখন শহরের মূল বাজারের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করে। এতে পুরো বিশ্বনাথ পৌর শহরে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন ঘণ্টাখানেক সময় লাগছে।
বিশ্বনাথ ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব এমাদ উদ্দিন খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি চরম অবহেলায় পড়ে আছে। এটি কেবল যাতায়াতের সমস্যা নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত জরুরিভিত্তিতে অস্থায়ী সংস্কার কাজ অন্তত শুরু করা হোক, যাতে বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রকৌশলী আবু সাঈদ বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটির কাজ করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

