লালমনিরহাটে পাওনা টাকা ও বিদেশ পাঠানো নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুল মোল্লা (৬২) নামের এক বৃদ্ধকে মসজিদের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সিন্দুরিয়া খামারটারী গ্রামে এই অমানবিক ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই বৃদ্ধ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আব্দুল মোল্লার ছেলে মিজানুরের মাধ্যমে লিবিয়ায় যান স্থানীয় হাসানুর রহমান। সেখানে কর্মস্থলে সমস্যা হওয়ায় হাসানুরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আব্দুল মোল্লাকে চাপ দিচ্ছিল তার পরিবার। এই বিরোধের জেরে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষরা তাকে ঘেরাও করে। এরপর জনসম্মুখে বৃদ্ধ আব্দুল মোল্লাকে একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়।
এদিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় তাকে মারধরের পাশাপাশি মুখে থুথু নিক্ষেপ এবং গায়ের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে বিবস্ত্র করে চরমভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্যাতনের সময় বৃদ্ধ আব্দুল মোল্লা অঝোরে কেঁদে বারবার প্রাণভিক্ষা চাইলেও হামলাকারীদের মন গলেনি। তাকে বাঁচাতে ভাতিজা মিঠু মিয়া এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর দাবি, নির্যাতনের সময় তার পকেটে থাকা টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গতকাল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুল মোল্লা শারীরিক আঘাতের চেয়েও মানসিক অপমানে বেশি ভেঙে পড়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
জানতে চাইলে সদর থানার ওসি সাদ আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা ১২ জনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওটি সংগ্রহ করেছি। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন