ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রোকন উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকছেদ আলীর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ১ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ল্যাব সহকারী পদে চাকরিপ্রার্থী হুমায়ুনের বড় ভাই কালিমুল্লাহর দাবি, ৮ লাখ টাকার চুক্তিতে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়া হলেও চাকরি দিতে ব্যর্থ হন প্রধান শিক্ষক। পরে এক লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকি তিন লাখ টাকা নিয়ে তিনি তালবাহানা করছেন।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে কর্মচারী নিয়োগে পাঁচজনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪-৫ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য এবং গত ২৪ বছর ধরে একক আধিপত্য বিস্তার করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির পাশাপাশি শিক্ষার করুণ চিত্র দেখা গেছে। তিনতলা নতুন ভবন থাকলেও একসময়ের প্রায় পৌনে ৪০০ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়টিতে বর্তমান ছাত্রীর সংখ্যা মাত্র ১৭৬ জন। ক্লাসে উপস্থিতি ছিল নামমাত্র; এমনকি দশম শ্রেণির কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয় অভিভাবক মফিজ উদ্দিন ও আজিজুল হক জানান, প্রধান শিক্ষকের একগুঁয়েমি ও পড়াশোনার মান খারাপ হওয়ায় তারা সন্তানদের অন্য স্কুলে সরিয়ে নিয়েছেন।
এদিকে আগামী ১৭ জুন অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধান শিক্ষকের। অভিযোগ উঠেছে, বিগত ২৪ বছরের আর্থিক অনিয়ম ও অপকর্ম ঢাকতে তিনি গোপনে নিজের পছন্দের তিনজনকে রেখে বিতর্কিত এডহক কমিটি গঠনের পাঁয়তারা করছেন। এই কমিটি বাতিলের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহ মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনও প্রধান শিক্ষকের একরোখা স্বভাবের কথা স্বীকার করেছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মোকছেদ আলী একে তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন। এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

