ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে এলো মৃত তিমি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৬:৪৯ এএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিশাল আকৃতির একটি মৃত তিমির সন্ধান পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যরা গভীর সমুদ্রে গিয়ে তিমিটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে তিমিটি ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে বেলিন (ইধষববহ) প্রজাতির তিমি বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৮ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ২০ ফুট।

সৈকতে কর্মরত ওয়াটার বাইক চালকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু। তিনি জানান, সংবাদ পাওয়ার পর স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিমিটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। তার ধারণা, তিমিটি প্রায় ৫ থেকে ৬ দিন আগে মারা গেছে।

মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে তিমিটি ৫ থেকে ৬ দিন আগে মারা গেছে। তবে বাহ্যিক অবস্থা দেখে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, জাহাজের ধাক্কা, মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়া, রোগ সংক্রমণ, সামুদ্রিক দূষণ, খাদ্য সংকট, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে তিমিটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে নেক্রোপসি ও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

এদিকে স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা মৃত তিমিটি সংরক্ষণ এবং এর ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের বিরল সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।