নরসিংদীর ঘোড়াশালে আনারসের এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। স্বাদ, গুণগত মান ও রসালো বৈশিষ্ট্যের কারণে ঘোড়াশালের রাবানের আনারস ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক পরিচিতি ও খ্যাতি অর্জন করেছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ এবং জিনারদী ইউনিয়নের বড় একটি অংশ আনারস চাষের জন্য উপযোগী। এ এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে আনারস চাষই কৃষকদের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত রয়েছেÑ ‘ঘোড়াশালের রাবানের আনারস রসে টসটস,’ যা এ অঞ্চলের আনারসের স্বাদ ও জনপ্রিয়তার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানান, এ বছর উপজেলায় ১৪৬ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ করা হয়েছে। প্রতি একরে গড়ে প্রায় ১৮ হাজার চারা রোপণ করা হয় এবং প্রতি হেক্টরে গড়ে ১১ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়ে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কৃষি বিভাগ এ বছর মোট প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন আনারস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
তিনি আরও জানান, রাবান, কুড়াইতলী, বড়িবাড়ি, কাটাবের, বরাব, ধলাদিয়া, গোবরিয়াপাড়া, লেবুপাড়া, সাতটিকা ও চরনগরদীসহ বিভিন্ন এলাকায় আনারসের ব্যাপক চাষ হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ও আকার উভয়ই ভালো হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক অনিল বসু, পরিমল দাস, তমা রায়, কবিতা রায় ও স্বর্ণালী রায়সহ অনেকেই দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে আনারস চাষের সঙ্গে যুক্ত। তারা জানান, এক বিঘা জমিতে আনারস চাষে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও ভালো ফলন হলে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ, পচনশীল এই ফল সংরক্ষণের জন্য ঘোড়াশাল এলাকায় এখনো কোনো হিমাগার স্থাপন হয়নি। এতে মৌসুমে একসঙ্গে বেশি উৎপাদন হলে বিক্রয় ও সংরক্ষণে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তাই তারা দ্রুত একটি হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, আনারস চাষে অল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। রাবান এলাকার আনারস এখন দেশের একটি ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে এবং এর উৎপাদন ও সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।
স্থানীয় কৃষক তমা রায় জানান, এ বছর প্রতিটি আনারসের ওজন প্রায় ৮০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত হওয়ায় কৃষকেরা ভালো লাভের আশা করছেন। তিনি বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাত আনারস উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ঘোড়াশালের আনারস দেশের কৃষি অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

