নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে হঠাৎ বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ভুট্টার খেত। এতে বিপাকে পড়েছেন ভুট্টাচাষিরা। পানির মধ্যে ভুট্টা কাটতে গিয়ে দ্বিগুণ শ্রমিক খরচ বহন করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, শ্রমিক সংকট ও পানিবন্দি পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে ভুট্টা কাটার শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে, তবুও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা ভুট্টা চাষে তাদের উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ফসল বিক্রি করে আয় আসছে কম, ফলে প্রতি বিঘায় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের কাউয়াটিকরী গ্রামের দক্ষিণ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা নৌকা ব্যবহার করে পানির মধ্যে ভুট্টা সংগ্রহ করছেন। পরে ভুট্টা রাস্তার ওপর এনে শুকানোর কাজ করছেন তারা। ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মমিন বলেন, তার ১০ বিঘা জমির মধ্যে ৮ বিঘার ভুট্টা পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘শ্রমিক খরচ দ্বিগুণ দিতে হচ্ছে, আবার ভুট্টার রঙ নষ্ট হয়ে দামও কমে গেছে।’
আরেক কৃষক শাহিন জানান, তিনি ৪ বিঘা জমির ভুট্টা কেটে পাশের বেড়াবাড়ি ও পাড়িল গ্রামের রাস্তায় শুকাচ্ছেন। তার হিসাবে, প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ হয়েছে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ মণ, প্রতি মণ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
কৃষক তমেজ উদ্দিন বলেন, চলনবিল এলাকার বেড়াবাড়ি, কাউয়াটিকরী ও পাড়িল গ্রামে দুই দফা আকস্মিক বন্যায় কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এর আগে বোরো ধানেও লোকসান হয়েছিল, এবার ভুট্টায়ও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় শতভাগ ভুট্টা কৃষকেরা ঘরে তুলেছেন এবং ফলনও ভালো ছিল। তবে আকস্মিক বন্যায় কিছু নিচু এলাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে।

