ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

বন্ধ যান চলাচল

ব্রিজ ভেঙে ট্রাক খালে

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৬:২৩ এএম

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর নির্মিত একটি বেইলি ব্রিজ ভেঙে আলুবোঝাই ট্রাক খালে পড়ে গেছে। এতে ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। গতকাল বুধবার ভোর রাতে উপজেলার সাফা ও মিরুখালী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকায় দেবীপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন খালের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। ব্রিজে আলুবোঝাই একটি ট্রাক ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি ধসে খালে পড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া, বরিশাল-খুলনা, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে হাজারো যাত্রী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বুধবার ভোরে ভারী আলুবোঝাই ট্রাকটি ব্রিজ অতিক্রম করার সময় সেটি হঠাৎ ধসে পড়ে। এরপর থেকে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিকল্প পথ হিসেবে প্রায় ৬ কিলোমিটার সরু রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে যাত্রীদের। তুষখালী লঞ্চঘাট-তেলিখালী-ইকরি হয়ে ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে, এতে সময় ও খরচ দুই-ই বাড়ছে। অনেক যানবাহন ব্রিজের সামনে পৌঁছে ফিরে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব মিয়া বলেন, ‘এই বেইলি ব্রিজটি এলাকার যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স, অটোরিকশা ও সাধারণ মানুষ এটি ব্যবহার করে। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় এখন পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।’

পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া-বরিশাল রুটের বাসচালক মো. সোহাগ খান বলেন, ‘ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় আমাদের ৬ কিলোমিটার সরু পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি খরচ অনেক বেড়ে গেছে, যাত্রীদেরও ভোগান্তি চরমে।’

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, বেইলি ব্রিজটির ধারণক্ষমতা ছিল ২০ টন। তবে অতিরিক্ত ওজনের কারণে এটি ভেঙে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ব্রিজটি দ্রুত প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, ‘ব্রিজটির ধারণক্ষমতা ২০ মেট্রিক টন হলেও অতিরিক্ত লোডের কারণে এটি ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হয়েছে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ লাঘবের চেষ্টা চলছে।’