ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

কুমিরশূন্য ঠাকুরদিঘিতে স্বস্তি

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৬:২৫ এএম

প্রায় ৬০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কুমিরশূন্য হয়েছে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন ঠাকুরদিঘি। সম্প্রতি জননিরাপত্তার স্বার্থে দিঘিতে থাকা কুমিরটি উদ্ধার করে খুলনার বয়রা রেসকিউ সেন্টারে স্থানান্তরের পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দিঘিতে আর কোনো কুমির ফিরিয়ে আনা উচিত নয়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাজারের কুমিরকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যবসায়ী নানা ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, সেই ব্যবসায়িক স্বার্থে একটি মহল আবারও দিঘিতে কুমির ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুমসহ অনেকে বলেন, খান জাহান আলী (রহ.)-এর সময়ের ঐতিহ্যের সঙ্গে বর্তমান দিঘির কুমিরের সরাসরি কোনো ঐতিহাসিক সম্পর্ক নেই। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিরটি জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই ঐতিহ্যের চেয়ে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, অতীতে এই দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান। সর্বশেষ এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীর আট বছর বয়সি কন্যা ফাতেমা কুমিরের আক্রমণে নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর প্রশাসন ও বন বিভাগের উদ্যোগে কুমিরটি উদ্ধার করে খুলনার বয়রা রেসকিউ সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।

মাজারে আগত দর্শনার্থীরা কুমির সরিয়ে নেওয়ার পর নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন। তাদের মতে, দিঘির পাড় ও পানির ধারে এখন স্বস্তিতে চলাচল করা যাচ্ছে।

দর্শনার্থী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘কুমির সরানোর পর আমরা এখন অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছি। আগে পানির ধারে যেতে ভয় লাগত।’ আরেক শিশু দর্শনার্থী আরিন বলেন, ‘আমি এখানে এসে গোসল করি। কুমির থাকলে ভয় লাগত, এখন আর লাগে না।’ স্থানীয়রা দিঘিতে পুনরায় কুমির না আনার বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর সিদ্ধান্ত কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘একটি শিশুর প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত অনাকাক্সিক্ষত। কুমিরটি দীর্ঘদিন ধরে মাজারের দিঘিতে রয়েছে এবং এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। তাই আমরা আবারও দিঘিতে কুমির দেখতে চাই।’

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বন বিভাগের সহায়তায় কুমিরটিকে উদ্ধার করে রেসকিউ সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এটি খুলনার বয়রা রেসকিউ সেন্টারে রয়েছে। তবে মাজারে নতুন করে কুমির আনার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। ঐতিহ্য ও জননিরাপত্তার প্রশ্নে ভিন্নমত থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা দিঘিকে কুমিরমুক্ত রাখার পক্ষেই মত দিয়েছেন।