যে মা ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে ধারণ করে সন্তানকে মানুষ করেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার ভাগ্যেই জুটল নির্মম অবহেলা। ৯৬ বছর বয়সি বৃদ্ধ মা ছামেনা খাতুনের ঠাঁই হলো না একমাত্র ছেলের নতুন নির্মিত পাকা ঘরে। প্রবাসী ছেলে দেশ ছাড়ার পরদিনই গভীর রাতে বৃদ্ধ মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি মেয়ের জরাজীর্ণ ঘরে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ছামেনা খাতুনের দুঃখের দিন শুরু। একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ ২০০৬ সাল থেকে সৌদি আরবে কর্মরত। ২০১১ সালে ফয়েজ তার বৃদ্ধ মাকে বাড়ি থেকে পাশের বাড়িতে থাকা স্বামীহারা মেয়ে রোকেয়া বেগমের কাছে পাঠিয়ে দেন। রোকেয়া বেগম নিজে অভাবের সংসারে থাকলেও দীর্ঘ বছর ধরে পরম মমতায় মায়ের দেখভাল করছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ফিরে ফয়েজ আহমেদ একটি আধুনিক বিল্ডিং নির্মাণ করেন। গ্রামবাসীর অনুরোধে তখন তিনি মাকে নিজের নতুন ঘরে তুলেছিলেন। কিন্তু গত ৪ মে ফয়েজ পুনরায় সৌদি আরবে উড়াল দেওয়ার পরপরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। অভিযোগ রয়েছে, ফয়েজ দেশ ছাড়ার পরদিনই তার স্ত্রী রুমা বেগম গভীর রাতে ছামেনা খাতুনকে তার যৎসামান্য মালামালসহ মেয়ের জরাজীর্ণ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
বৃদ্ধ ছামেনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলে আর বউ আমার খোঁজ নেয় না। অনেক বছর আগেই ছেলে আমারে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিল। আমার এই গরিব মেয়েরাই এখন আমারে মুখে তুলে খাওয়াচ্ছে।’
অভিযুক্ত পুত্রবধূ রুমা বেগমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তিনি লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর জানান, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। খোঁজ নিয়ে এর একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন ঘটনাটিকে চরম বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আশ্বাস দেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অসহায় বৃদ্ধার ভরণপোষণ ও সুরক্ষার বিষয়ে প্রশাসন থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

