তিন বছর কারাভোগের পর ভারতের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েও নিজের দেশে এসে চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন রোমানা খাতুন নামে এক নারী। গত ৬ জুন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করে। কিন্তু সরকারি কোনো নিরাপদ আশ্রয় বা সেফ হোমের বদলে বর্তমানে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন সীমান্তবর্তী পিরতলা গ্রামের এক গ্রামের দোকানের বারান্দায়।
নিজের পরিচয় হিসেবে রোমানা জানান, তার বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়। বাবার নাম আব্দুল খালেক। দীর্ঘ কারাবাস ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার চোখেমুখে এখন গভীর অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট।
উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের পিরতলা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত দিয়ে আসার পর থেকেই তিনি ঠিকমতো কথা বলছেন না, খাবারও খাচ্ছেন না। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তিনি গ্রামের এক দোকানের বারান্দায় দিনাতিপাত করছেন। স্থানীয় টগর খাতুন, ফজলুর রহমানসহ এলাকাবাসী মানবিক কারণে তাকে সামান্য খাবার ও সহযোগিতা করলেও একজন অসহায় নারীর এভাবে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে নিজ দেশে ফেরার পর রোমানার পুনর্বাসনের দায়িত্ব কেন প্রশাসন নিচ্ছে না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে এলেও এখন পর্যন্ত তার স্থায়ী পুনর্বাসন বা চিকিৎসায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, মেয়েটির নাগরিকত্ব ও পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, পুলিশের কাছ থেকে প্রতিবেদন পেলে ঠিকানা শনাক্ত করে পরিবারে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করবেন।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান জানান, গাংনীর ভবানীপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। বর্তমানে মেয়েটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও সমাজসেবা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা তত্ত্বাবধানের চেয়ে মেয়েটির দ্রুত চিকিৎসা ও নিরাপদ আবাসন এখন সময়ের দাবি।
রোমানা মানবপাচারের শিকার হয়েছিলেন কি না কিংবা ভারতে কোন পরিস্থিতিতে ছিলেনÑ তা এখনো অস্পষ্ট। তবে তিন বছর পর নিজ দেশে ফিরেও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা না পাওয়া এই নারীর অবস্থা সীমান্ত এলাকায় বড় ধরনের মানবিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তাকে কোনো সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে (সেফ হোম) স্থানান্তর ও উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন।

