গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় গোপনে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস পাচারের চেষ্টার সময় ৬ ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ রসুলপুর (মোংলা বন্দর) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোর্দ্দ রসুলপুরের মোংলা বন্দরে ফজলু মাস্টারের ছেলে খাইরুল ইসলামের মালিকানাধীন একটি পরিত্যক্ত রাইস মিলের চাতালে গোপনে ৬টি ঘোড়া জবাই করা হয়। জবাই করা মাংসগুলো কৌশলে গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে স্থানীয় বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ঘিরে ফেলে এবং হাতেনাতে আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা চাতালের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আটককৃতরা হলেনÑ মোমিনুর রহমান, মিন্টু মিয়া, হৃদয় হোসেন, রাজিব হোসেন, মামুন মিয়া ও জোবায়ের রহমান। তাদের বাড়ি বিভিন্ন জেলায় বলে জানা গেছে।
খাদ্যে ভেজাল ও এমন জঘন্য কর্মকা-ে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই মাংস যারা বাজারে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিল, তাদের নেপথ্যের হোতাদেরও খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
ঘটনার খবর শুনে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান শুভ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ওসি এ কে এম হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার পর ইউএনও মহোদয়ের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
ইউএনও মাহমুদুল হাসান জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আটককৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকা- কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

