ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা টাঙালেন সেই কাউছার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৬:২৪ এএম

ফুটবল উন্মাদনায় বিশ্ব যখন মাতোয়ারা, তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দেখা মিলল এক অন্যরকম ফুটবলপ্রেমীর। দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের প্রতি তীব্র আবেগ ও ভালোবাসা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশালাকার পতাকা তৈরি করে টাঙিয়েছেন আবু কাউছার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের খাল্লা গ্রামের বাসিন্দা আবু কাউছার ১৯৯৮ সালে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমান। ২০০২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সুযোগ পান তিনি। সে সময় কোরিয়ান তারকা আঞ্জুয়ানের ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখে মুগ্ধ হন এবং সেই থেকে দলটির পাঁড়ভক্তে পরিণত হন। দীর্ঘ সময় প্রবাসজীবন শেষে ২০১৩ সালে দেশে ফিরলেও দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল দলের প্রতি তার ভালোবাসা একবিন্দুও কমেনি।

ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে আবু কাউছার ২০১৮ সালে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকায় প্রথম ১ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা টাঙিয়েছিলেন। এরপর ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা টাঙাতে তার খরচ হয়েছিল প্রায় ৫ লাখ টাকা। এবার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষে সেই রেকর্ড ভেঙে তিনি তৈরি করেছেন ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পতাকা। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা, যা তিনি তার রেস্তোরাঁ ‘পিস কোরিয়া ক্যাফে’র আয় থেকে খরচ করেছেন।

বাঞ্ছারামপুরের খাল্লা বিষ্ণুরামপুর থেকে শুরু করে বাহাদুর হয়ে খাল্লা পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত পুরো সড়কজুড়ে টাঙানো হয়েছে এই বিশাল পতাকা। শুধু পতাকাই নয়, কাউছারের রেস্তোরাঁর ব্যবহৃত প্লেট, মগ ও আসবাবপত্রও সাজানো হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকার রঙে।

আবু কাউছারের এমন আবেগী কা-ে মুগ্ধ প্রতিবেশী আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন কোরিয়ায় ছিলেন, তাই দেশটির প্রতি তার একটি আলাদা টান ও আবেগ কাজ করে। আমরা তাকে সব সময় উৎসাহ দিই। আমরাও চাই, এবার বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া দুর্দান্ত ফুটবল খেলে সাফল্য পাক।

আবু কাউছার জানান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং দেশটির ফুটবল দলের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমার এই প্রয়াস। নিজের জমানো টাকায় এই পতাকা টাঙাতে পেরে আমি আনন্দিত।

বিশ্বকাপের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গে আবু কাউছারের এই ৫ কিলোমিটারের পতাকা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। ফুটবলের প্রতি এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আবেগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।