ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

পদ্মার চরে চীনা বাদামের বাম্পার ফলন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৪:০০ এএম

যেখানে বছরের পর বছর শুধু ধু-ধু বালুচর আর পতিত জমি পড়ে থাকত, সেখানে এখন সবুজ পাতার নিচে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ইউনিয়নের রাণীনগরে পদ্মা নদীর জেগে ওঠা দুর্গম চরে এবার চীনা বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ, প্রযুক্তি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে বদলে গেছে চরাঞ্চলের চিত্র।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে এই চরের প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ বিঘা অনাবাদি জমিতে চীনা বাদামের চাষ হয়েছে। যে জমিগুলো এতদিন পতিত পড়ে থাকত, সেগুলো এখন কৃষকদের আয়ের নতুন উৎস হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন জেগে ওঠা চরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শুধু বালু আর তার মাঝে ছড়িয়ে আছে চীনা বাদামের সবুজ গাছ। কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ফসল ঘরে তুলতে। তাদের ভাষ্য, একসময় এই জমি পদ্মার পানিতে ডুবে থাকত। জেগে ওঠার পরও দীর্ঘদিন কোনো ফসল চাষ করা সম্ভব হয়নি। পরে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) ও স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতা এবং পরামর্শে তারা চীনা বাদাম চাষ শুরু করেন। এতে ভালো ফলন পাওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে অন্য কৃষকদের মধ্যেও।

চাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে এ বছর তারা ভালো লাভের আশা করছেন। আগামীতে চীনা বাদাম চাষ আরও সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

চাষি ও স্কুল শিক্ষক মহব্বত আলী বলেন, ‘নতুন জেগে ওঠা এই চরে আগে শুধু বালু পড়ে থাকত। কোনো ফসল হতো না। বিনা অফিসের সহযোগিতায় বীজ, সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে আমরা বাদাম চাষ শুরু করি। এতে ভালো ফলন পেয়েছি। আমাকে দেখে এলাকার অনেক কৃষক এখন আগ্রহী হয়েছেন।’ তিনি জানান, প্রতি বিঘা জমিতে চীনা বাদাম চাষে খরচ হয় প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে বিক্রি করে পাওয়া যায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে কৃষকের লাভ থাকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বর্তমানে এই এলাকায় প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ হচ্ছে।

আরেক চাষি মুখলেসুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বিঘায় আমাদের প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন হলে ৩০ হাজার টাকার মতো লাভ থাকে। আগে এই জমি পড়ে থাকত। বিনা অফিসের সহযোগিতায় আমরা চাষাবাদ শুরু করেছি। আগামীতে আরও বেশি জমিতে চাষ করতে চাই।’

চাষি বেলাল আলী বলেন, ‘বিনা-৪ ও বিনা-৮ জাতের বাদামের বীজসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী চাষ করায় ফলন ভালো হচ্ছে। কয়েক বছর আগে আমরা অল্প পরিসরে শুরু করেছিলাম। এখন পুরো চরজুড়ে কৃষকেরা বাদাম চাষে আগ্রহী হয়েছেন।’

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীর জেগে ওঠা চরাঞ্চলের পতিত জমিকে চাষের আওতায় এনে চীনা বাদাম উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি চরাঞ্চলের অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।