সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নিয়োগ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই জেলার নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরে এসেছে দীর্ঘদিনের হারানো প্রাণচাঞ্চল্য।
জানা যায়, সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় বিপর্যয়ের পর মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা অনেকটাই অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিলেন। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে দখলদারিত্বের অভিযোগ জেলা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছিল। তবে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নিয়োগের পর নেতাকর্মীরা এক ছাতার নিচে আসার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যে জেলা বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যের ডাক দিয়েছেন এবং স্থানীয় নির্বাচনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি এইচ এম রহমতউল্লাহ পলাশ বলেন, হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নিয়োগ সাতক্ষীরাবাসীর মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। আমরা তাকে নিয়ে জেলার উন্নয়নকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।’ সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, ‘নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে, এখন আমরা ভেদাভেদ ভুলে উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করব।’
এদিকে দীর্ঘদিন জেলা পরিষদে প্রশাসক না থাকায় সাতক্ষীরার রাস্তাঘাট ও সরকারি ডাকবাংলোগুলো বেহাল অবস্থায় ছিল। গত ৪ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর ৬ জুন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর হাবিবুল ইসলাম হাবিব স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘জেলা পরিষদের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য এখন থেকে সব সময় খোলা থাকবে। বর্তমান সরকারের সহায়তায় জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে আমরা যৌথভাবে কাজ করব।’
তালা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, ‘আমরা অবশেষে আমাদের অভিভাবক খুঁজে পেয়েছি, এখন নিজেদের কথা মন খুলে বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
দায়িত্ব গ্রহণের পর হাবিবুল ইসলাম হাবিব বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে বিগত আন্দোলনের সময়কার ক্ষতিগ্রস্ত ও জেল-জুলুমের শিকার নেতাকর্মীদের প্রতি সহমর্মিতা জানান।

