ঢাকা শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

বাঁশির সুরেই জীবন চলে জগদীশের

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০২:৩৯ এএম

আধুনিক প্রযুক্তি আর যান্ত্রিকতার এই যুগে সুরের জাদু যেন এক বিস্ময়। তারপরেও ভোলার চরফ্যাশনের পথে-ঘাটে প্রতিদিন ভেসে আসে করুণ এক বাঁশির সুর। এই সুরের কারিগর ৭০ বছর বয়সি জগদীশ চন্দ্র শীল। বয়সের ভারে শরীর কিছুটা ন্যুব্জ হলেও, কাঁধে ঝোলানো বাঁশির ঝুলি আর ঠোঁটে জমানো সুরই আজ তার বেঁচে থাকার মূল রসদ।

গত বৃহস্পতিবার সকালে চরফ্যাশন উপজেলা সদরে দেখা মেলে এই বংশীবাদকের। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পথচারীÑ তার বাঁশির সুর শুনে থমকে দাঁড়ান অনেকেই। কেউ শখ করে কিনছেন বাঁশি, কেউবা নিছক সুরের মোহে দাঁড়িয়ে শুনছেন।

বরগুনার বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জগদীশ চন্দ্রের জীবনসংগ্রাম দীর্ঘদিনের। অভাবের কারণে শৈশবে পড়ালেখা জোটেনি, তাই বেছে নিয়েছিলেন যাত্রাদলের বংশীবাদকের পেশা। সাত বছর যাত্রাদলে কাজ করার পর দল ভেঙে গেলে কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি। স্ত্রী রমলা রাণী, ছেলে জয়ন্ত ও পুত্রবধূ বন্নিকাকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন পারিবারিক কুটির শিল্প। সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে মুলি বাঁশ সংগ্রহ করে পরিবারের সবাই মিলে তৈরি করেন বাঁশি।

৪৮ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ আর গ্রাম্য মেলায় ঘুরে বাঁশি বিক্রি করেন তিনি। ৫০ থেকে ৫০০ টাকা মূল্যের এই বাঁশি বিক্রি করে দিনে গড়ে দুই থেকে তিন হাজার টাকা আয় হয় তার, তাতেই চলে চার সদস্যের সংসার।

তবে এই শিল্প নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জগদীশ চন্দ্র। তার মতে, নতুন প্রজন্মের বাঁশির প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এত বছর ধরে কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকলেও সরকারি কোনো সহায়তা পাইনি। অথচ যারা এ কাজের সঙ্গে নেই, তারাও অনেক সময় সুবিধা পাচ্ছেন।’

প্রযুক্তির ভিড়ে যখন বাঁশির সুর হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন জগদীশ চন্দ্রের মতো শিল্পীরাই এখনো বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন। তার এই সুরের মূর্ছনা বেঁচে থাকুক, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।