ঢাকা সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

পানির অপেক্ষায় ৭০০ গ্রাহক

আল-আমিন, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)
প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ১২:০৩ এএম

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরবাসীর বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রায় ২৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প ৬ বছরেও চালু হয়নি। ৬ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার বিশাল জলাধারসহ অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও কেবল বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে ঝুলে আছে পুরো কার্যক্রম। ফলে সংযোগ নিয়ে বছরের পর বছর পানির অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৭০০ গ্রাহকের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৩০টি পৌরসভায় চলমান পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২০ সালে রায়গঞ্জে এই প্রকল্প শুরু হয়। ২০২২ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা পারেনি ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এন অ্যান্ড সি কেটি (জেভি)। প্রকল্পের আওতায় জলাধার নির্মাণে ১০ কোটি ৮০ লাখ, ড্রেন নির্মাণে ১২ কোটি এবং পাইপলাইনে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রায়গঞ্জে বড় কোনো পানিসংকট না থাকলেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে পৌর শহরের ধানগড়া পালপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির জলাধার, পাইপলাইন ও গ্রাহক সংযোগের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। কিন্তু দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় পুরো প্রকল্পটি এখন অচল পড়ে আছে। প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার গ্রাহককে পানি সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০০ পরিবার ৫২০ টাকা জামানত দিয়ে সংযোগ নিয়েছেন। প্রতি হাজার লিটার পানির মূল্য ১৫০ টাকা নির্ধারণ করে বসানো হয়েছে মিটারও। কিন্তু দীর্ঘদিনেও পানি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা দিজেন পাল ও গৃহবধূ ছবি পাল জানান, দ্রুত পানি পাওয়ার আশায় সংযোগ নিলেও বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই মিলেছে। বাধ্য হয়ে তারা নিজস্ব খরচে সাবমার্সিবল পাম্প ও নলকূপ বসিয়েছেন। আরেক বাসিন্দা রনজিৎ দাস প্রশ্ন তোলেন, ‘সংযোগ আছে, কিন্তু পানি নেই। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজেরাই পানির ব্যবস্থা করেছি। এখন এই সংযোগের প্রয়োজনীয়তা কী?;

ভানু রাম পাল বলেন, ‘এখন এলাকার অধিকাংশ মানুষ নিজস্ব ব্যবস্থায় পানির সমস্যা সমাধান করেছে। প্রকল্প চালু হলেও মানুষ কতটা আগ্রহ দেখাবে, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।’ কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এন অ্যান্ড সি কেটি (জেভি)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রায়গঞ্জে বড় ধরনের পানিসংকট না থাকলেও প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এখন দীর্ঘসূত্রতার কারণে এর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের রায়গঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ‘এটি একটি বড় প্রকল্প। বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।’

প্রকল্পের ঠিকাদার নুরুল আলম টিটু বলেন, ‘প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় জলাধারটি চালু করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেই পানি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।’

রায়গঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সরকার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করেই প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে। দ্রুত প্রকল্প চালুর জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

ভূইয়াগাঁতী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. নিজামুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই মিটার স্থাপন করা হবে।’ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো শুরু হয়নি পানি সরবরাহ। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জলাধারটি শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ছয় বছর অপেক্ষার পরও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে রায়গঞ্জ পৌরবাসীর মধ্যে।