পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে কৃষি শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কয়েক ঘণ্টা পর জামিল হোসেন (৫০) নামে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত জামিল হোসেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিণা গ্রামের আবু ম-লের ছেলে। অভিযুক্ত ইউসুফ আলী ভাঙ্গুড়া উপজেলার চড়-ভাঙ্গুড়া গ্রামের কুদ্দুস ম-লের ছেলে। তিনি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ দিন আগে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে জামিল হোসেন তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আসেন। তারা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে স্থানীয় সোহেল ডাক্তারের একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং ধান মাড়াই মেশিন দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতেন। গত শনিবার বিকেলে বিএনপি নেতা ইউসুফ আলী জামিলকে ধান মাড়াইয়ের কাজে ডাকেন। জামিল কিছুটা দেরি হবে জানালে ইউসুফ ক্ষিপ্ত হয়ে ধান মাড়াই মেশিনের চাবি নিয়ে নেন। পরে চাবি ফেরত চাইলে ওই চাবি দিয়েই তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে জামিলকে জোর করে ধান মাড়াইয়ের কাজে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় কাজ করানো হয়। কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বাড়ির পাশে নদীতে গোসল করতে গেলে সেখান থেকে ফিরে এসে মাটিতে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহতের মেয়ের জামাই আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিএনপি নেতা ইউসুফ আলী দ্রুত মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের চাপ দেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাফর ইকবাল হিরোক বলেন, ‘আমি বিষয়টি সকালে ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত দায় দল নেবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আজম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

