কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে নদী-তীরবর্তী চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাদাম, ভুট্টা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি স্বাভাবিক ছিল। তবে রোববার ভোর থেকে হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করে এবং দুপুরের মধ্যে তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এতে নি¤œাঞ্চল ও চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তর ও উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চরের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, ‘শুক্রবার পর্যন্ত নদীতে পানি ছিল না। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত বাদাম তুলতে হচ্ছে, কিন্তু সব ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। সময়মতো সতর্কবার্তা না পাওয়ায় প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।’
আরেক কৃষক ফজলু মিয়া বলেন, ‘দুই একর জমিতে মরিচ চাষ করেছি। আরও কয়েক দফা তোলার সুযোগ ছিল। কিন্তু হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় গাছ তুলে বাড়িতে নিতে হচ্ছে।’
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, ‘চরের অধিকাংশ বাদাম খেত ইতোমধ্যে কৃষকরা তুলে নিয়েছেন। তবে কিছু ধানের বীজতলা রয়েছে, সেখানে পানি দুই থেকে তিন দিন থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর প্রভাবেই তিস্তার পানি বেড়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, পানি আরও বাড়লে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধির খবরে চরাঞ্চলের মানুষ ও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কৃষকেরা দ্রুত ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন, যাতে সম্ভাব্য ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো যায়।

