ঢাকা সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের আকুতি

ঋণের বোঝায় ইতালিতে প্রবাসীর আত্মহত্যা

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ১২:৩৪ এএম

ভাগ্য বদলের আশায় সহায়-সম্বল বিক্রি ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন বাগেরহাটের মো. জেন্নাত খান খোকন (৫০)। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। ইতালিতে কাজ না পাওয়া ও তীব্র মানসিক হতাশায় খোকন আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পরিবারের। এখন মরদেহ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সাত লাখ টাকা জোগাড় করা এবং ঋণের ভারে জর্জরিত পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। নিহত খোকন বাগেরহাট সদর উপজেলার ফতেপুর শিমুলতলা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র চার মাস আগে তিন বন্ধুর প্ররোচনায় বুলগেরিয়া থেকে ইতালিতে যান তিনি। বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন পূরণে নিজের জমি বিক্রি ও এনজিও থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা ঋণ নিতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু ইতালিতে গিয়ে প্রত্যাশিত কাজ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি চরম হতাশায় ভুগছিলেন। গত শনিবার ইতালিতে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

এদিকে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে খোকনের স্ত্রী, তিন মেয়ে ও বৃদ্ধ মা এখন দিশাহারা। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মরদেহ দেশে আনতে আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়েছেন তারা।

নিহতের শ্যালক শেখ তানভীর হাসান বলেন, দুলাভাই ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে এখন তিনি লাশ হয়ে ফিরছেন। আমরা এখন ১৫-২০ লাখ টাকার ঋণের বোঝা আর স্বজন হারানোর শোক নিয়ে অসহায়। সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, দয়া করে মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে খোকনের বৃদ্ধ মা বলেন, আমার বুকের ধনকে শেষবারের মতো একবার দেখতে চাই। সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি, আমার ছেলের মরদেহ দেশে এনে দাফনের ব্যবস্থা করা হোক। স্ত্রী সুমি বেগম জানান, মরদেহ দেশে আনতেই প্রায় সাত লাখ টাকার প্রয়োজন, যা তাদের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব।

একদিকে স্বজন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে ঋণের চাপে পরিবারটির এখন পথে বসার উপক্রম। খোকনের পরিবার দ্রুত সরকারি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও মানবিক সহায়তা কামনা করেছেন।