রাজশাহীর তানোরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে কাশিমবাজার-বায়াবাজার সড়কের সংস্কারকাজে ধীরগতি ও নির্মাণ মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের সংস্কারকাজে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈকত এন্টারপ্রাইজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কাজের অগ্রগতি ধীর হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ মান নিয়েও তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। কালীগঞ্জ হাট এলাকায় আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শিডিউল অনুযায়ী হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ ছাড়া বৃষ্টির মধ্যেও ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
চান্দুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, সড়কটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে খুবই খারাপ ছিল। এখন সংস্কারকাজ শুরু হলেও কাজের মান নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, সরেজমিন তদন্ত করলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।
স্থানীয় শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, কাজের ধীরগতি ও নির্মাণ মান নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। শিডিউল অনুযায়ী দ্রুত কাজ শেষ করে সড়কটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
পথচারীদের ভাষ্য, সংস্কারকাজের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে কাজ শেষ হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে বলে তারা আশা করছেন। একই সঙ্গে তারা কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কাজের মান সে তুলনায় সন্তোষজনক নয়। তারা অভিযোগ করেন, রাস্তার বেড ও এজিংয়ে পুরোনো ইট-খোয়া এবং নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে কার্পেটিং, বেড ও বিটুমিনের মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈকত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী টিজার বলেন, এলজিইডির নির্ধারিত মান ও নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। বিশেষ করে বিটুমিন ও পাথরের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লেগেছে। বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
তানোর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী নুরুন্নাহার বলেন, উপজেলার চলমান সব উন্নয়ন প্রকল্প গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করা হচ্ছে। কাশিমবাজার-বায়াবাজার সড়কের কাজেও কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই।
রাজশাহী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে উপকরণের মান বা পরিমাণে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। প্রকৌশলীরা নিয়মিত কাজ তদারকি করছেন এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ হলে কাশিমবাজার-বায়া সড়কে যান চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। একই সঙ্গে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা-েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন