× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সারোয়ার হোসেন, তানোর (রাজশাহী)

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ০৬:৩২ এএম

রাজশাহীর তানোর

বেহাল সড়কে চরম ভোগান্তি

সারোয়ার হোসেন, তানোর (রাজশাহী)

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ০৬:৩২ এএম

বেহাল সড়কে চরম ভোগান্তি

রাজশাহীর তানোর উপজেলার মু-ুমালা পৌরসভার মু-ুমালা থেকে সাতপুকুরিয়া সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন সড়কটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বর্ষার পানি জমে সেসব গর্ত এখন যেন একেকটি মরণফাঁদ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে মু-ুমালা থেকে জটা বটতলা হয়ে গোদাগাড়ী পর্যন্ত সড়কটি পাকা করা হয়। পরবর্তী সময়ে জটা বটতলা পর্যন্ত সড়কের কিছু অংশ কয়েকবার সংস্কার করা হলেও রহস্যজনক কারণে মু-ুমালা বাজার মোড় থেকে তানোরের সীমানা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা দীর্ঘ ২৩ বছরেও সংস্কারের মুখ দেখেনি। সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন অস্তিত্বের সংকটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ জায়গায় পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, যা পথচারী ও যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে ওঠে। অটো, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান আলী জানান, এই সড়ক দিয়ে মু-ুমালা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মু-ুমালা কেজি স্কুল ও ফজর আলী মোল্লা ডিগ্রি কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। আবিদুর রহমান নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি ভাঙা থাকলেও কারো নজর নেই। অন্তত বর্ষার আগে গর্তে ইট দিয়ে ভরাট করা প্রয়োজন।’

সড়কের দুর্দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম মুন বলেন, গোদাগাড়ী ও তানোর দুই উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষের জন্য এটি প্রধান সড়ক। মাত্র চার কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশার কারণে হাজার হাজার মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। জনস্বার্থে দ্রুত সংস্কার জরুরি।

সাতপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান রাস্তা নষ্ট হওয়ার কারণ হিসেবে অপরিকল্পিত বাড়ি নির্মাণকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘রাস্তার পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাশন হতে পারে না। বৃষ্টির পানি জমে সড়ক দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ইট ও খোয়া দিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।’

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, আগামী অর্থবছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অপেক্ষায় না থেকে জনদুর্ভোগ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। দ্রুত সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে এই সড়ক দিয়ে যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে মেনটেন্যান্সের আওতায় ১৪টি সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। তবে এই মুহূর্তে মু-ুমালা-সাতপুকুরিয়া সড়কের গর্তে ইট ও খোয়া দিয়ে সাময়িক সংস্কার করার সুযোগ নেই। আগামী অর্থবছরে এই রাস্তা পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মু-ুমালা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত সচিব ও সহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেন মুকুল বলেন, রাস্তার বর্তমান অবস্থার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি রাস্তার ছবি ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পৌর প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করব। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখব।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!