পাবনার সদর উপজেলার পদ্মা নদীর চরে অবৈধ বালু উত্তোলনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় মঞ্জু শেখ (৩৫) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ও চরতারাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুড়িয়া কলাবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মঞ্জু শেখ সদর উপজেলার আড়িয়াগোহাইলবাড়ী এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, তিনি দলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এছাড়া তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ এবং চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর ভাতিজা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীর চর থেকে বালু উত্তোলনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও শুক্রবার সকালে উভয় পক্ষ আবারও বালু উত্তোলনের স্থানে মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মঞ্জু শেখ নিহত হন।
সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ অভিযোগ করেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার একটি পক্ষ বালু উত্তোলনের উদ্দেশ্যে চরে গেলে তার ভাতিজারা বাধা দেন। এ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে মঞ্জু শেখ নিহত হন। তিনি এই হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
তবে ঘটনার বিষয়ে ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে বালু উত্তোলন বা এই হত্যাকা-ের সঙ্গে আমার বা আমার অনুসারীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হত্যাকা-ে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন