টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে তীব্র তাপপ্রবাহ ও অসহনীয় গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের লাগামহীন বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলাবাসী। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন এবং বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। উপজেলার মোট বিদ্যুতের চাহিদা ২৮ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯ মেগাওয়াট। কর্তৃপক্ষের এমন ‘জোড়াতালি’র বিদ্যুৎ সেবায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।
উপজেলা সদরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. আমজাদ হোসেন, ‘বিদ্যুৎ এখন আর যায় না, বরং মাঝেমধ্যে একটু আসে। এ কারণে ব্যবসার অবস্থা এখন খুবই করুণ। দিনে-রাতে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই, তাও ভোল্টেজের এত ওঠানামা যে ফ্রিজ আর ফ্যান চালানোই দায়। ভোল্টেজ ঠিক না থাকায় বিদ্যুৎ বিল আসছে আকাশচুম্বী, কিন্তু সেবা পাচ্ছি না বললেই চলে। বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আমরা তো আর বিদ্যুৎ যায় না বলছি না, অবস্থা এখন এমন যে বিদ্যুৎ আর আসে না, মাঝে মাঝে একটু পাওয়া যায়।’
ফাতেমা বেগম নামের এক গৃহিণী বলেন, ‘অসহ্য গরম আর মশার উপদ্রবে বাসায় থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমার ছোট শিশুটা গরমে ঘামাচি আর জ্বরে কাহিল হয়ে পড়েছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা তো দূরের কথা, একটা ফ্যানও ঠিকমতো চলে না। আমরা এই অসহ্য লোডশেডিং থেকে মুক্তি চাই, আমাদের বাচ্চার স্বাস্থ্যের কথা একটু ভাবুক কর্তৃপক্ষ।’
এদিকে উপজেলা সদরে দিনে-রাতে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিললেও গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও ভয়াবহ। এ ছাড়া ভোল্টেজের তীব্র উঠানামার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া এবং বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার অভিযোগও রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল লাভলু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার (ডেমি অফিসিয়াল লেটার) দিয়েছেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ পরবর্তীতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। সংসদ সদস্য আশা করেছেন, শীঘ্রই এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের অবসান ঘটবে।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ নাগরপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম (অতি.) নয়ন চন্দ্র সরকার জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সরবরাহ বাড়লে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন