কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে সড়ক দুর্ঘটনাকবলিত রোগীর বিচ্ছিন্ন ডান পা খুঁজে না পাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর পর অপারেশন থিয়েটারে ওই পা খুঁজে না পাওয়ায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা। নিহত হাসেম আলী (৬০) কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কৃষক।
জানা যায়, গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্দালপুরের শাহপুর এলাকায় ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় দুর্ঘটনায় তার ডান পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বিচ্ছিন্ন পাসহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপারেশন থিয়েটারে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা হাসেম আলীকে বিচ্ছিন্ন পাসহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর পর যখন স্বজনরা পা-টি খুঁজতে যান, তখন তা আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। অপারেশনের পর বিচ্ছিন্ন পা-টি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের পরিবেশ ভারী করে তোলেন। শেষ পর্যন্ত ডান পায়ের অংশ ছাড়াই নিহতের মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে হয়। এই ঘটনায় তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার অভিযোগ তুলে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও বিচার দাবি করেছেন।
ঘটনা সম্পর্কে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান বলেন, আমি রাতেই শুনেছি যে হাসপাতালের স্টাফরা বিচ্ছিন্ন পা-টি স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছিল। এরপর সেখানে আসলে কী হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখব এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, বিষয়টি এখনো তাদের কানে আসেনি। নিহতের পরিবার অথবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর একটি স্থানে এমন ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ব্যক্তির অঙ্গ হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন