নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ডুমরাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অতিরিক্ত মাটি বিক্রি ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ বিরোধের জেরে খননকাজে নিয়োজিত এস্কেভেটরের চালককে মারধর এবং চাঁদা দাবির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পের মাটি দখলের এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম মেনে ডুমরাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অতিরিক্ত মাটি ইজারার মাধ্যমে ১ লাখ ৬২ হাজার ১২৫ টাকায় বরাদ্দ পান ডুমরাই গ্রামের বাসিন্দা ও দয়ারামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফ সোনার। নিয়ম অনুযায়ী ইজারাদার লতিফ সোনার মাটি বিক্রির আইনি অধিকার লাভ করেন। তবে এই ইজারা প্রক্রিয়া জানাজানি হওয়ার পর একই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সাজদার রহমান মাটি বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক মধ্যস্থতায় লতিফ সোনার ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সাজদার রহমানকে মাটি বিক্রির স্বত্ব দিতে রাজি হলেও নথিপত্রে লতিফের নামই বহাল থাকে। পরে সাজদার রহমান তার দেওয়া টাকা ফেরত নিলে দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত রূপ নেয়। ইজারাদার লতিফ সোনারের অভিযোগ, বৈধ ইজারা থাকা সত্ত্বেও সাজদার রহমান ও তার অনুসারীরা মাটি কাটায় বাধা দিচ্ছেন এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছেন। সর্বশেষ গত ৪ জুলাই চাঁদা না দেওয়ায় তার প্রকল্পের এস্কেভেটরচালক মনজুরুল আলমকে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগী চালক মনজুরুল আলম বলেন, ‘আমি নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ কয়েকজন এসে কাজ বন্ধ করতে বলে। আমি কাজ চালিয়ে গেলে তারা আমাকে মারধর করে।’ এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী লতিফ সোনার থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি জানান।
এদিকে সরকারি প্রকল্পের কাজে এমন বিশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের কাজ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাজদার রহমান। তিনি বলেন, ‘খাল খনন প্রকল্পের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সফল হইনি। চালককে মারধরের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি আব্দুল হান্নান জানান, মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই রতনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন