ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর-সাবদারপুর সড়কে গভীর রাতে খেজুরগাছের গুঁড়ি ফেলে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীকু-ু গ্রামের কুশোগুড়ি মাঠের নির্জন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র ডাকাত দলের ধারালো অস্ত্রের কোপে জহিরুল ইসলাম (৪৬) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুর থেকে মোটরসাইকেলযোগে কোটচাঁদপুরের দিকে আসছিলেন জহিরুল ইসলাম ও মো. মমিনুর রহমান। মোটরসাইকেলটি নির্জন এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা মুখোশধারী পাঁচ-ছয়জনের একদল ডাকাত রাস্তার ওপর খেজুরগাছের গুঁড়ি ফেলে গতি রোধ করে। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ডাকাতেরা জহিরুলকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোর পাশাপাশি করাত দিয়ে নৃশংসভাবে জখম করে। জহিরুল রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে ডাকাতেরা তার কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একই সময়ে মমিনুর রহমানের কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার টাকা ও একটি নোকিয়া ফোন লুটে নেওয়া হয়।
হামলা শেষ হতে না হতেই ডাকাত দলটি কোটচাঁদপুরের দিক থেকে আসা দুটি ট্রাক ও একটি তেলের লরির গতি রোধ করে। এ সময় ট্রাকচালক মো. রিয়াদকে মুখে আঘাত করে গুরুতর জখম করে তারা। এরপর তেলের লরির চালককে জিম্মি করে আরও ২০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। ভুক্তভোগীদের মতে, ডাকাত দলের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে একজনকে ‘মাস্টার’ বলে সম্বোধন করছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো নির্দিষ্ট নেতার অধীনে এই দল সক্রিয় রয়েছে।
ঘটনার সময় কোটচাঁদপুর থানার পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ও স্থানীয়রা রক্তাক্ত জহিরুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এই দুর্ধর্ষ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোটচাঁদপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ‘মাস্টার’ চক্রকে শনাক্ত করতে এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশ বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন